কিশোর-তরুণদের নিয়ে এলাকায় একটি দল গড়ে তুলেছিল আল আমিন ওরফে সোহেল ওরফে ভিআইপি রানা ওরফে প্রিন্স রানা। এই দল নিয়ে সে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এক্ষেত্রে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে এসিডে ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। এতে স্থানীয়দের কেউ বাধা দিলে তাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ প্রকাশ্যে হেনস্থাও করা হতো।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জঙ্গলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা এবং প্রতিবাদ করায় ৪ শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মূল হোতা সোহেলসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

এর আগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীর গুলিস্তান ও কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১৪। এ ব্যাপারে জানাতে বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ১২ জুন জঙ্গলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক নির্বাচনী ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা চলাকালে বহিরাগত কিছু ছেলে বিদ্যালয় ভবনের দোতলায় উঠে ছবি তোলার চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষিকা তাদের স্কুল থেকে চলে যেতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা 'দেখে নেব' বলে হুমকি দেয়। ওইদিন বিকেলে স্কুল শেষে শিক্ষিকারা অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে করিমগঞ্জের তালিয়াপাড়া এলাকায় বখাটেরা তাদের পথরোধ করে। তারা শিক্ষিকাদের লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানি করে এবং অকথ্য ভাষায় গালি দেয়।

এ ঘটনায় বখাটেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। পরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে ওই বখাটেদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় বলে জানান এই র‍্যাব কর্মকর্তা।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, শিক্ষিকাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করায় জড়িতরা আত্মগোপনে চলে যায়। প্রথমে তারা করিমগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে থাকে। পরে সোহেল গুলিস্তানে এক আত্মীয়ের বাসায় এসে আশ্রয় নেয়।