নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে প্রেমিক-প্রেমিকার অনৈতিক কাজ দেখে ফেলায় সালমা আক্তার (৮) নামে এক শিশুকে হত্যার দায়ে নিহতের বড় বোনের প্রেমিক মাইন উদ্দিনকে (২৮) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সৈয়দ মুহাম্মদ ফখরুল আবেদিন এ রায় দেন। এ সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মাইন উদ্দিন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর হাজারী গ্রামের প্রয়াত হোরনের ছেলে। নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম আকবর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত সালমার বড় বোন শারমিন আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মাইন উদ্দিনের। প্রেমের সুবাদে প্রায়ই শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হতেন তারা। ২০১২ সালের ৮ মে বিকেলে শারমিনের মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হন তারা। এ সময় শারমিনের ছোট বোন সালমা বিষয়টি দেখে ফেলে। এরপর সালমা তার মাকে ঘটনা বলে দিবে বলায় তাকে একটি কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাতের পর শ্বাসরুদ্ধকরে হত্যা করেন মাইন উদ্দিন। হত্যার পর প্রেমিক-প্রেমিকা মিলে সালমার মরদেহ পাশের জঙ্গলে ফেলে দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ১১ মে কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই তানভির বাদী হয়ে নিহতের বোন ও তার প্রেমিককে আসামি করে মামলা করেন। এর পর তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কিন্তু আসামি শারমিনের বয়স ১৬ বছর হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শিশু আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। অপর দিকে আসামি মাইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন (আমৃত্যু) কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন গুলজার আহমেদ জুয়েল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম।