অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরে কথিত স্ত্রীর হাতে খুন হন ঢাকার আশুলিয়ার অটোরিকশাচালক আলী নূর বিশ্বাস। এ ঘটনায় জড়িত আহিনা খাতুনকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। মঙ্গলবার রাতে এ অভিযান চালানো হয়।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, আলী নূর ২০১৪ সালে মাগুরা থেকে ঢাকায় এসে পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে তিনি অটোরিকশা চালাতে শুরু করেন। তিন বছর আগে তাঁর সঙ্গে আহিনা খাতুনের পরিচয় হয়। দু'জনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠলে একপর্যায়ে তাঁরা একসঙ্গে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। পরে তারা বিয়ে না করে এবং পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আশুলিয়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। গত তিন বছরে তারা পাঁচবার বাসা পরিবর্তন করেছেন।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, জুলাই মাসের শুরুতে আলী নূর বিশ্বাস মাগুরার শ্রীপুরে তার গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে ১৪ জুলাই তিনি বিয়ে করেন এবং ১৭ জুলাই ঢাকায় ফিরে আসেন। এই বিয়ের কথা জানতে পেরে আহিনা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়। তবে সে মনোভাব গোপন রেখে হত্যার পরিকল্পনা করে।

গত ২৯ জুলাই সে আলী নূরকে নিয়ে আশুলিয়ার জিরাবো নামাপাড়া এলাকায় একটি বাসায় ভাড়াটে হিসাবে ওঠে। ৩০ জুলাই রাতের খাবার শেষে দু'জনই শুয়ে পড়ে। ঘুমের ভান করে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে আহিনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোরে সে ঘুমন্ত আলী নূরকে বঁটি দিয়ে মাথা, গলা ও বুকে নৃশংশভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, রক্তাক্ত লাশ দেখে সে কিছুটা ভয় পায় এবং লাশটি কাঁথা চাপা দিয়ে রাখে। শেষে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বস্তায় ভরে সকাল ৬টার দিকে সে ঘরে তালা দিয়ে বের হয়। এরপর সে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে গিয়ে বাসা ভাড়া নেয়।

৩১ জুলাই বিকেলে তিনি আলী নূরের মোবাইল ফোন থেকে তার এক আত্মীয়কে কল করে জানায়, আলী নূর গুরুতর অসুস্থ। এর পরদিন (১ আগস্ট) পরিবারের সদস্যরা জিরাবো এলাকার ওই বাসায় গিয়ে তালা ভেঙ্গে ঢুকে কাঁথা মোড়ানো লাশ দেখতে পান। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে মঙ্গলবার আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৪ ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আহিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, আহিনা ২০১২ সালে বিয়ে করলেও পারিবারিক কলহের কারণে দেড় বছর পর বিচ্ছেদ হয়। ওই সংসারে তার একটি ছেলে রয়েছে। সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে ২০১৮ সালে তিনি ঢাকায় আসেন এবং আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। সেখানে আলী নূরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।