মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বেশি বেতনে চাকরি, বিলাসবহুল জীবন-যাপনসহ বিনামূল্যে হজ করানোর কথা বলে তালাকপ্রাপ্ত নারীদের বিদেশে পাচার করে আসছিলেন কনকর্ড অ্যাপেক্স রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক আবুল হোসেন। তিনি বেকার, অল্পশিক্ষিত, অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারের তালাকপ্রাপ্ত নারীদের টার্গেট করতেন। সারাদেশেই তাঁর দালাল চক্র রয়েছে। এসব অপকর্মে নিজের বৈধ প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ব্যবহার করতেন।

আবুল হোসেন ও তাঁর সহযোগী আলেয়া বেগমকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত রোববার র‌্যাব-১-এর একটি দল রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় কনকর্ড অ্যাপেক্স রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। ওই সময় বিদেশে পাচার করতে অফিসে বসিয়ে রাখা তিন নারীকেও উদ্ধার করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ৩১টি পাসপোর্ট, পাচারের জন্য বিভিন্ন ডকুমেন্টের ২২ পাতা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই দু'জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেন র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল-মোমেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আবুল হোসেন আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। তিনি নিজের বৈধ প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নারী পাচার ও নির্যাতনের মতো জঘন্য অপকর্ম করছিলেন। তাঁর এ কাজের অন্যতম সহযোগী আলেয়া বেগম। এ ছাড়া অসংখ্য দালাল রয়েছে।

র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, আবুল হোসেন দালালদের মাধ্যমে মূলত সমাজের বেকার, অল্পশিক্ষিত, অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারগুলোর বিবাহিত বা তালাকপ্রাপ্ত মেয়ে ও নারীদের মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে অধিক বেতনে চাকরি, বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা, রাজকীয় থাকা-খাওয়ার সুবিধা, স্মার্টফোন দেওয়া এবং সৌদিতে হজ করানোর মতো ধর্মভিত্তিক লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার করতেন। এভাবে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার পর প্রথমে আবুলের চক্রটি নারীদের জানালাবিহীন কক্ষে আটকে রাখে এবং দুই-তিন দিন পর সেসব দেশের নাগরিকরা ভুক্তভোগীদের পছন্দ করে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর তাঁদের দিয়ে সব ধরনের কাজ করানো, খাবারের উচ্ছৃষ্ট খেতে দেওয়া বা কোনো খাবার খেতে না দেওয়া এবং অকারণে মারধরের মাধ্যমে অমানবিক নির্যাতন করা হয়।

গ্রেপ্তার আবুল হোসেন ও আলেয়া বেগম র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তাঁদের কথায় প্রলুব্ধ হয়ে কেউ বিদেশ যেতে রাজি হলে আইনি ঝামেলা এড়াতে বিদেশ যাত্রী ও পরিবারের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে টিপসই নিয়ে রাখতেন। পরে তাতে নিজেদের সুবিধামতো চুক্তিপত্র টাইপ করে নিতেন।