ফরিদপুর চিনিকল থেকে গোপনে ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় গেটে প্রহরীর হাতে ধরা পড়ার পর উল্টো তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় চিনিকলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে ফরিদপুর চিনিকলের গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রহমানের নির্দেশে একটি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি করেন গার্ড শাহাজাহান। এ সময় ট্রাকের টুলবক্সে ট্রাক্টরে ব্যবহৃত একটি ফুয়েল পাম্প পাওয়া যায়। বিষয়টি জানতে পেয়ে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ খবিরউদ্দিন মোল্লা ওই ট্রাকচালক মোকলেসকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরদিন (বুধবার) সকালে চিনিকলের ট্রাকচালকরা আন্দোলনের হুমকি দিয়ে ট্রাক চালাতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চালকের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ তুলে নেওয়া হয়।

এদিকে আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, ট্রাকচালক মোকলেস অকথ্য ভাষায় তাকে গালিগালাজ করে চরথাপ্পড় মারেন। এরপর বিষয়টি নিরাপত্তা প্রহরীদের মাঝে জানাজানি হলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ট্রাকচালক মোকলেস সালফার আনতে চট্টগ্রামের পথে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি ভালো মানুষ দাবি করে চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আব্বাস আলী সমকালকে বলেন, আমাদের চিনিকলের সব পাম্প লাল রং করা। কিন্তু উদ্ধার হওয়া পাম্পটি রং করা ছিল না। এ ধরনের মবিল পাম্প আমাদের চিনিকলে আমরা কখনো দেখিনি।

তবে মিলে কর্মরত অনেক শ্রমিক অভিযোগ করেন, দেশের ৬টি চিনিকল বন্ধ হওয়ার পর সেখানকার অনেকে এই মিলে এসে চাকরি করছেন। চিনিকলের অনেক ট্রাক্টর, গাড়ি ও অন্যান্য মালামাল দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে আছে। সংঘবদ্ধ চোররা ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করছেন। এ সময় তারা ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেন।

এব্যাপারে ফরিদপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ খবিরউদ্দিন মোল্যা বলেন, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই ট্রাক থেকে ফুয়েল পাম্প উদ্ধারের পর সংশ্লিষ্ট চালককে সাময়িক বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, সব চালকরা ট্রাক চালাতে অস্বীকৃতি জানালে কাজ চালু রাখার স্বার্থে বহিষ্কারের বিষয়টি প্রত্যাহার করা হয়েছে।