লায়লা সাবরিন ওরফে রেশমা। বয়স ৩৭ বছর। মোটরসাইকেল নিয়ে ছোটেন রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। লেডি বাইকারের আড়ালে তিনি একজন মাদক কারবারি। বাইকে করে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেন হেরোইন। গত বুধবার বিকেলে মোটরসাইকেলে করে হেরোইন বহনের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তার হন ওই নারী। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে রাখা হয় গেণ্ডারিয়ায় বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ে। গোয়েন্দা হেফাজত থেকে পরদিন সকালে পালিয়ে যান এই হেরোইন মামলার আসামি। এ ঘটনায় গেণ্ডারিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, হেরোইন মামলার আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছে নাকি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়েছেন তিনি। ভবনের চারতলায় গোয়েন্দা কার্যালয়। সেখানেই রাখা হয়েছিল রেশমাকে। ভবনের নিচতলার গেট তালাবদ্ধ এবং চত্বরের প্রধান গেটে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা কর্মী থাকার কথা। চারতলা থেকে নামার পর তাঁদের চোখই বা তিনি কীভাবে ফাঁকি দিলেন?

ডিএনসির পরিচালক (অপারশেন্স ও গোয়েন্দা) তানভীর মমতাজ সমকালকে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কারও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেশমার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলা সদরের পারনগাঁও গ্রামে। তিনি বসবাস করেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যানে। গত বুধবার বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজের মোটরসাইকেল চালিয়ে শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ রিফাত হোসেনের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল রেশমার গতিরোধ করে। তাঁর কাছে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগে তল্লাশি করে ১০০ পুরিয়া হেরোইন পাওয়া যায়। এর পরই তাঁকে গ্রেপ্তার এবং মাদক বহনে ব্যবহূত তাঁর মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিন রাত পৌনে ১টায় তার বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন ডিএনসির গোয়েন্দা কার্যালয়ের এসআই ইকবাল আহমেদ দীপু।

রাতে রেশমাকে গেণ্ডারিয়ায় বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ে রাখা হয়। গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী উপপরিদর্শক রোবিনা আক্তার ও সিপাই আব্দুর রহমানের হেফাজতে রাখা হয়েছিল তাঁকে। বৃহস্পতিবার সকালে পালিয়ে যান রেশমা।

আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সহকারী উপপরিদর্শক রোবিনা আক্তার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার গেণ্ডারিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। এজাহারে বলা হয়েছে, ভোর ৫টায় ভ্যাসলিন সদৃশ পদার্থ রোবিনা আক্তারের চোখেমুখে লাগিয়ে দেন রেশমা। এতে তিনি অচেতন হয়ে যান। পরবর্তী সময়ে সিপাই আব্দুর রহমান তাঁকে ডেকে তোলেন এবং জানান আসামি পালিয়ে গেছেন।

সূত্র জানিয়েছে, কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের সময়ই তল্লাশি করে তার কাছে থাকা সবকিছুই জব্দ করা হয়। তাকে হেফাজতে নেওয়ার সময় আসামির কাছে ক্ষতিকর কোনো বস্তু থাকার কথা নয়। তাহলে রেশমার কাছে ভ্যাসলিন এলো কীভাবে? এ ছাড়া ভোর ৫টায় চারতলা থেকে পালানোর কথা এজাহারে বলা হলেও ভবনের বাইরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কর্মকর্তারা দেখেছেন ৬টা ২২ মিনিটে চত্বর ত্যাগ করেন রেশমা। তাহলে ৫টায় চারতলা থেকে নামার পর এই এক ঘণ্টা ২২ মিনিট কোথায় ছিলেন তিনি- এমন প্রশ্নে এক কর্মকর্তা বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ৫টায় কর্মকর্তার হেফাজত থেকে রেশমা পালানোর পর ওই এক ঘণ্টা ২২ মিনিটে ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক রবিউল ইসলাম সমকালকে বলেন, সহকারী উপপরিদর্শক রোবিনার কক্ষে আসামিকে রাখা হয়েছিল। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।