ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নিজের বাইকে আগুন দিয়ে ‘হিরো সাজতে গিয়ে’ কারাগারে ‘জুনিয়র টাইগার’

নিজের বাইকে আগুন দিয়ে ‘হিরো সাজতে গিয়ে’ কারাগারে ‘জুনিয়র টাইগার’

রাসেল মিয়া ওরফে জুনিয়র টাইগার-(মাঝে)

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১৯:৩২

রাজধানীর বাড্ডা আফতাব নগর হাউজিং এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ মোটরসাইকেলে অন্যভাবে মামলা দিয়েছে এমন অভিযোগ তুলে আগুন লাগিয়ে দেয় মালিক রাসেল মিয়া ওরফে জুনিয়র টাইগার। ওই ব্যক্তি বাইকে আগুন দিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে লাইভ করে ভাইরাল হতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

ডিবির দাবি, মোটরসাইকেলের মালিক রাসেলের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেনি। বরং তার এক বন্ধুর মোটরসাইকেলে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় মামলা দেয় পুলিশ। সেই কেসের স্লিপ দেখিয়ে নিজের পাঁচ লাখ টাকা দামের মোটরসাইকেলে আগুন লাগিয়ে দিয়ে ফেসবুকে লাইভে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আলোচনায় আসতে চায় সে। মোটরসাইকেলের লাগানো আগুনের ভিডিও থেকে তিনি ২০০ ডলার আয়ও করেছেন।

রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

অতিরিক্ত কমিশনার হারুন বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বাইকারের ভিডিও দেখা যায়। তাদের মধ্যে ছেলেমেয়ে উভয়ই মূলত ইউটিউবার। তারা যেকোনো স্থানে বেপরয়া গতিতে মোটরসাইকেল ড্রাইভ করে সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে এসব ভিডিও ছাড়ে। আর রাসেল নিজেকে জুনিয়র টাইগার পরিচয় দিতেন। তার একটি গ্রুপও আছে, সেই গ্রুপে মেয়েদের নিয়ে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ভিডিও ছাড়ে। সম্প্রতি রাসেলের নিজের পাঁচ লাখ টাকা দামের মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। সেখান থেকে ২০০ ডলার আয় করেছে। পরে তাকেসহ পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ভিডিওতে যে মামলার তথ্য দিয়েছে, আসলে সেটা তার সঙ্গে ঘটেনি। তার বন্ধু ফুয়াদের মোটরসাইকেলের মামলার স্লিপ। সে বেপরোয়া গতি, সিগন্যাল অমান্য ও অবৈধ হর্ন ব্যবহার করায় মামলা খেয়েছে।

তিনি বলেন, মানিকগঞ্জ দৌলতপুর এলাকার প্রবাসী বাবা-মায়ের সন্তান রাসেল। ফেসবুকে নিজেকে রাসেল ওরফে ‘জুনিয়র টাইগার শ্রফ’ পরিচয় দেয়। এই নামে তার ফেসবুক ও ইউটিউব অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেখানে মোটরসাইকেলের এসব ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের অশালীন ও আইন বিরোধী ভিডিও পোস্ট করতেন। ২০২০ সালে এইচএসসি পাশ করার পরে আর পড়াশোনা করেনি রাসেল। কিছু দিন ভারতে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ নিয়ে ‘জুনিয়র টাইগার শ্রফ’ পরিচয় দিতে থাকে নিজেকে। সে মূলত মোটরসাইকেল স্পিডিং স্টান্ডিংসহ বিভিন্ন ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে ছাড়ত। এতে তার আয় হতো। পাশাপাশি আয় বাড়াতে নিয়মিত জুয়ার সাইট প্রমোট করতেন।

বাইকে আগুন দেওয়ার বিষয়ে হারুন বলেন, ঘটনার দিন আফতাব নগরে রাসেল তার বন্ধু ফুয়াদসহ কয়েকজন মিলে মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও তৈরি করেন। ভিডিওতে বাইক পোড়ানোর কারণ হিসেবে কেস স্লিপ দেখিয়ে রাসেলকে বলতে শোনা যায়, ট্রাফিক পুলিশ অন্যায় ভাবে তার মোটরসাইকেলে পাঁচ হাজার টাকার মামলা দিয়েছে। এই অন্যায়ের মামলার প্রতিবাদ করতে প্রিয় ও ভালোবাসার বাইকটিকে পুড়িয়ে দিচ্ছে।

ডিবি পুলিশ বলছে, প্রকৃতপক্ষে সেদিন তার মোটরসাইকেলে কোনো মামলায দেয়নি ট্রাফিক পুলিশ। মিথ্যা হিরোইজম দেখাতে গিয়ে সে এ কাজটি করেছে বলে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।

রাসেলের সঙ্গে জড়িত তরুণ তরুণীদের নাম পরিচয় পেয়েছে ডিবি। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন

×