ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ঢাকা, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার ৫

বিলাসী জীবনের ব্যয় মেটাতে ডাকাতি

বিলাসী জীবনের ব্যয় মেটাতে ডাকাতি

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০১:৫০

কোনো কাজ না করেও তারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করত। যেখানেই যেত দেদার উড়াত টাকা। জুয়ার টেবিলেও তাদের সবার পকেট ছিল উদার। পরিচিতদের কাছে বজায় রাখত অর্থনৈতিক আলিসান জীবনের ভাব। আসলে কেউ জানত না, বিলাসী জীবনের এই ব্যয় পাঁচ বন্ধু রমজান, আরমান, বিল্লাল, রাসেল এবং সালমান মেটাত চুরি-ডাকাতি করে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার সালমান বিভিন্ন সময়ে জুয়ায় হেরে গিয়ে টাকা পরিশোধের জন্য এ পথে পা বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১ ফ্রেব্রুয়ারি রাজধানীর পূর্ব রামপুরার একটি বাসায় ডাকাতি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায় এই পাঁচজন। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী মামলা করার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি করা সাত ভরি স্বর্ণালংকার, ৫০ হাজার টাকা, তিনটি চাপাতি ও একটি হাইড্রোলিক স্টিলকাটার উদ্ধার করা হয়েছে।

চক্রটিকে গ্রপ্তার করা নিয়ে শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের খিলগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার রাশেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, বিল্লাল হোসেনসহ চক্রের প্রতিটি সদস্যের রয়েছে নিজস্ব নেটওয়ার্ক। প্রয়োজন অনুযায়ী তারা সময়ে সময়ে লোক ভাড়া করে। ডাকাতি-দস্যুতায় প্রাপ্ত মালপত্র নিরাপদে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য তারা ব্যবহার করে এসব লোককে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে জড়িত বাকিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ জানায়, প্রথমে পশ্চিম রামপুরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত রমজানকে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিজ বাড়ি কুমিল্লা মুরাদনগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মূল পরিকল্পনাকারী আরমানকে। পরে তাদের দু’জনের দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের মিজমিজি এলাকা থেকে গলিত স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার করা হয় বিল্লালকে। রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয় রংপুর থেকে। এই চক্রের ভাড়াটে সদস্য সালমানকে গ্রেপ্তার করা হয় রাজধানীর উত্তর বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকা থেকে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেপ্তার প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারী আরমানের বিরুদ্ধে দুটি অস্ত্র আইনের মামলাসহ মোট সাতটি মামলা আছে। এর আগেও বহুবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবার জামিনে বের হয়ে এসে আবার আরমান একই কাজ শুরু করে। রাসেলের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতা মিলিয়ে তিনটি মামলা রয়েছে। রমজান ও সালমানের বিরুদ্ধেও আছে একাধিক মাদক মামলা। বিল্লাল পেশায় স্বর্ণকার। মূলত ঢাকার আশপাশের কয়েক জেলার চোরাই স্বর্ণের শেষ গন্তব্য ছিল তার দোকান ‘আলিফ জুয়েলার্স’। এখানে সে স্বর্ণ গলিয়ে পাচারকারীদের কাছে হস্তান্তর করত।

আরও পড়ুন

×