ভেন্যু

ওল্ড ট্রাফোর্ড

বিশ্বকাপ ম্যাচ: ০৬

ধারণক্ষমতা: ২৪,৬০০

নির্মাণ: ১৮৫৭

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে প্রায় সমান্তরালভাবে চলে আসছে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার শহরে অবস্থিত ওল্ড ট্রাফোর্ড ভেন্যুটির ইতিহাস। ১৮৪৭ সালে এই মাঠে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়। এটি ইংল্যান্ডের জন্য ঐতিহাতিক টেস্ট ভেন্যু। ১৮৮৪ সালে এই মাঠেই শুরু হয় ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত প্রতিযোগিতা 'দি অ্যাশেজ'।

ওয়ানডে ক্রিকেটেও ইংলিশদের জন্য আবেগের নাম এই ওল্ড ট্রাফোর্ড। ইতিহাসের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটা ইংল্যান্ডের এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়। ইংলিশদের ওয়ানডে জয়ের যাত্রাটাও শুরু এখানে। ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রথম সেঞ্চুরিও হয় এই ভেন্যুতে (ড্যানিশ অ্যামিশ, ইংল্যান্ড, ১০৩)। জিম লেকারের এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডের সাক্ষীও ম্যানচেস্টারের অদূরে গড়ে তোলা এই স্টেডিয়াম।

শেন ওয়ার্নের ঘূর্ণি কারুকার্যে মাইক গ্যাটিংয়ের সেই বিখ্যাত বোল্ড যা 'বল অব দ্য সেঞ্চুরি' নামে খ্যাত, এই মাঠেই সেই ঘটনাটি ঘটেছিল। ক্রিকেট ইতিহাসের জন্যও ভেন্যুটি ঐতিহাসিক। এই মাঠেই ১৭ বছর ১১২ দিন বয়সে প্রথম সেঞ্চুরি করেন বিশ্ব ক্রিকেটের সবোর্চ্চ রানের মালিক শচীন টেন্ডুলকার। লিটল মাস্টারের আগমনী ধ্বনি এখানেই শুনতে পেয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব।

এই মাঠে বিশ্বকাপের দু'টি সেমিফাইনালসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপের একটি সেমিফাইনালসহ ছয়টি ম্যাচ এখানে হবে। সংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপে এর চেয়ে বেশি ম্যাচ আর কোনো ভেন্যুতেই হবে না। ক্রিকেটপ্রেমীদের জিভে জল এনে দেওয়া ভারত-পাকিস্তানের লড়াইটাও হবে এই মাঠেই।

ওল্ড ট্রাফোর্ড বর্তমানে ল্যাঙ্কাশায়ারের হোমগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভিভ রিচার্ডস তার অপরাজিত ১৮৯ রানের ইনিংসটি এই মাঠেই খেলেছিলেন। অনেকদিন ধরে এটি ওয়ানডে ক্রিকেটের এক ইনিংসে কোনো ব্যাটসম্যানের সবোর্চ্চ রান ছিল।