ভেন্যু

লর্ডস

বিশ্বকাপ ম্যাচ: ০৫

ধারণক্ষমতা: ২৮,৫০০

নির্মাণ: ১৮১৪

ফুটবলের ক্ষেত্রে মারাকানা বা ওয়েম্বলি যেমন গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যপূর্ণ ক্রিকেটে তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে খেলাটির 'মক্কা' খ্যাত লর্ডস ক্রিকেট স্টেডিয়াম। একটা পরিসংখ্যান দিলেই সেটা পরিষ্কার হবে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১১টি আসরের মধ্যে ইংল্যান্ডে হয়েছে চারটি, যার সবক'টি ফাইনালই হয়েছে এই লর্ডসে।

লর্ডসে খেলতে না পারার বিষয়টিকে একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের অপূর্ণতা হিসেবেই ধরা হয়! ১৮১৪ সালে লন্ডনের সেন্ট জন'স উডে লর্ডস স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই স্টেডিয়ামের মালিকানা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম পুরনো ক্লাব এবং ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা 'মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব'। এমসিসির মালিক টমাস লর্ডের নামানুসারেই স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয় 'লর্ডস'।

প্রতিষ্ঠার বছরেই মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ও হার্টফোর্ডশায়্যারের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে লর্ডসে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেট শুরু হয়। ১৮৮৪ সালে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখে লর্ডস। ১৯৭২ সালে ক্রিকেটের মক্কায় শুরু হয় ওয়ানডে ক্রিকেট। ১৯৭২ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটের পা পড়ে এই স্টেডিয়ামে। সেটি ছিল ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ।

২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালসহ মোট পাঁচটি ম্যাচ হবে এই স্টেডিয়ামে। শতবর্ষী এই স্টেডিয়ামে শতাধিক টেস্ট ম্যাচ হলেও ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে মোট ৬৩টি। যাতে তিনশোর্ধ স্কোর হয়েছে মাত্র আটবার। '৭৫ এর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ৩৩৪ রান করেছিল ইংল্যান্ড। এখন পর্যন্ত সেটিই সবোর্চ্চ স্কোর এই মাঠে। সেদিন ডেনিশ অ্যামিস করেছিলেন ১৩৭ রান।

পরের আসরে ১৯৭৯ সালের ফাইনালে অ্যামিসের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে 'কিং' ভিভ রিচার্ডস করেন ১৩৮ রান। এরপর কয়েক যুগ পার হয়েছে– লারা, শচীন, পন্টিং, সেবাগ, ভিলিয়ার্সের যুগ পার হলেও এখনও সেই ১৩৮ রানের রেকর্ড অক্ষত থেকে গেছে। এবার কি পারবেন কেউ? বোলারদের মধ্যে ইংল্যান্ডের ড্যারেন গফ ১৬ ম্যাচে ২৭ উইকেট নিয়ে নিজেকে লর্ডসের রাজার আসনে বসিয়েছেন।