নির্মাণের পর থেকে এভাবেই পড়ে আছে সেতুটি

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ২২ আগস্ট ২০১৯      

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

নির্মাণের পর থেকে এভাবেই পড়ে আছে সেতুটি -সমকাল

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার হরগজ ইউনিয়নের নয়াপাড়ায় নির্মিত একটি সেতু এক বছর আগে চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই সেতু দিয়ে যানবাহন তো দূরে থাক, মানুষ হেঁটেও চলাচল করতে পারে না। সেতুর দু’পাশে এ্যাপরোজ দেওয়ালে মাটি ভরাট না করায় সেতুটি জনসাধারণের কোন কাজেই আসছে না। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে হরগজ নয়াপাড়ায় প্রায় ৩১ লাখ টাকা ব্যায়ে ৪০ ফুট সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি নেওয়ার সময় সেতুর দু’পাশে মাটি ভরাটের জন্য ৬৩ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু মাটি না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যায়। পরে মাটি ভরাট না করায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের জামানত আটকে দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। 

এদিকে একই অর্থ বছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অফিস হতে ওই সেতুর দুপাশে মাটি ভরাট করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মোঃ আউয়াল হোসেনকে প্রকল্প সভাপতি করে আরও ২.৬৪ মেঃ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার টাকা। তবে ওই টাকায় কোন কাজ হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে স্থানীয় মানুষের। 

স্থানীরা জানায়, হরগজ ইউনিয়ন থেকে দেশে বিভিন্ন স্থানে কাঁচামাল সরবারহ করা হয়। এই সেতুর কারণে ব্যবসায়ীদের দ্বিগুন গাড়ি ভাড়া গুনতে হয়। এক বছর আগে সেতু নির্মাণ করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সেতুর দুপাশে মাটি ভরাট না করায় এ সেতু কোন কাজেই আসছে না এলাকাবাসীর। এছাড়া সেতুর দু‘পাশে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়। এতে শতশত শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ সেতু পারাপারে চরম বিপাকে পড়তে হয়।

হরগজ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন জ্যোতি জানান, ইতোমধ্যে ওই সেতুর দু’পাশে মাটি ভরাট করার জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে মাটি ফেলা হবে। 

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে তিনি বলেন, ঠিকাদার সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে চলে যায়।  

সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহারিয়া মাহমুদ রনজু জানান, হরগজ নয়াপাড়া সেতুর এ্যাপরোজ দেওয়ালে মাটি ভরাট না করায় উক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের জামানতের টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে। আর একই অর্থ বছরে আরও ২.৬৪ মেঃ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে ওই প্রকল্পের কাজ করা হবে।