ব্রিজের রেলিং ভেঙে বাস খাদে পড়ে নিহত ৮

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০১৯      

ফরিদপুর অফিস

ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে -সমকাল

ফরিদপুরে ব্রিজের রেলিং ভেঙে যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে আটজন নিহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-ফরিদপুর মহাসড়কে ফরিদপুর সদরের মাচ্চর ইউনিয়নের ধুলদি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনাস্থলে ছয়জন এবং হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যান আরও দুইজন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০জন।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি এফএম নাছিম জানান, ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের পাটকাটিগামী কমফোর্ট পরিবহনের যাত্রীবাসী বাসটি  নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ে ধাক্কা খায়। এসময় বাসটি পাশে খাদে পড়ে যায়। 

তিনি জানান, এতে ঘটনাস্থলেই ছয়যাত্রী মারা যান, আর হাসপাতালে মারা যান দুইজন। এসময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০জন। তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার খরব পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট, হাইওয়ে থানা পুলিশ, কোতয়ালী থানা পুলিশসহ এলাকাবাসী উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপ-পরিচালক শওকত আলী জোদ্দার জানান, আহতদের ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হলে সেখানে আরো দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

ফরিদপুর অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কমফোর্ট পরিবহনের বাসটি দ্রুত গতি থাকায় ব্রিজের ওঠার পর একটি মোটরসাইকেলকে সাইড দেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, এসময় ব্রিজের রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে নিচে পড়ে যায়। এই হতাহতোর ঘটনা ঘটে।

বিকেল ৫টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে দুইজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- হাবিবুর রহমান ও ফারুক হোসেন। দুইজনের বাড়ি গোপালগঞ্জ এ।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও তিনজন নারী। দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তারা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করেন।

আহতদের দ্রুত সবোর্চ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ফরিদপুর সদর আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন হাসপাতাল কর্র্র্তৃপক্ষকে নিদের্শ দিয়েছেন বলে জানান এমপির এপিএস এইচএম ফোয়াদ।

তিনি বলেন, আহত রোগীদের রক্তের প্রয়োজন হলে ছাত্রলীগের কর্মীদের রাখা হয়েছে, এছাড়াও মেডিকেল কলেজের মেডিসিন ক্লাব ও সন্ধানী ডোনার ক্লাবের কর্মীদের রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনার বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করবে। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।