কাঁচপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে আহত ৩০

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা পুলিশের- সমকাল

বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও প্রতি মাসের বেতন ৮ তারিখের মধ্যে পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

রোববার সকালে কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল এলাকায় ওপেক্স গ্রুপের সিনহা গার্মেন্টের শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।

জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ পোশাক শ্রমিকরা সকালে কারখানা এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় তারা লাঠিসোটা নিয়ে কারখানার প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ বাধা দেয়।

সকাল ১০টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করে মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকদের শান্ত করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেটে অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এসময় আহত হন ১০ পুলিশ সদস্যও।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, নারী শ্রমিকদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, ছুটিকালীন ভাতা, প্রতি মাসের বেতন ৮ তারিখের মধ্যে পরিশোধ ও ভাতা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। তবে পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ তা মেনে নিচ্ছে না।

এর আগেও গত শনিবার সকালে শ্রমিকরা একই দাবিতে বিক্ষোভ করে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ কারখানা ছুটি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ব্যাপারে সিনহা গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও তার নেতৃত্বে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় শ্রমিকদের মহাসড়কে অবস্থান নিতে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

শিল্প পুলিশ-৪ এর পুলিশ সুপার বশির আহম্মেদ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক। সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।