নাব্য সংকট

পদ্মা সেতুতে খুঁটির ওপর বসানো যাচ্ছে না স্প্যান

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৯      

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

পদ্মা সেতুর ৪-ই নম্বর স্প্যানটিকে দুই দিন ধরে তিয়ান-ই নামের ভাসমান জাহাজে জাজিরা প্রান্তের ২৮ ও ২৯ নম্বর খুঁটির সামনে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

নাব্য সংকটের কারণে সোমবার সেতুর ২৩ ও ২৪ নম্বর খুঁটির ওপর এটি স্থাপন সম্ভব হয়নি। এরপর সেতু কর্তৃপক্ষ নতুন করে ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা নির্ধারণ করলেও একই কারণে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়নি।

এমনিতেই বর্ষা মৌসুম ও নাব্য সংকটের কারণে তিন মাসের বেশি সময় ধরে পদ্মা সেতুর কোনো স্প্যান বসানো সম্ভব হয়নি। বুধবার স্প্যানটি বসানো সম্ভব হলে সেতুর মূল অবকাঠামো দৃশ্যমান হবে ২২৫০ মিটার (সোয়া দুই কিলোমিটার)।

পদ্মা সেতুর প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হলেও ৪-ই নম্বরের স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তের ২৩ ও ২৪ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো সম্ভব হচ্ছে না। ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটিকে ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার 'তিয়ান-ই' নামের ক্রেনবাহী জাহাজটি বহন করে চলাচলের জন্য নাব্য সংকট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর আরও ৩টি স্প্যান প্রস্তুত হয়ে আছে। কিন্তু নাব্য সংকটের কারণে স্প্যানগুলো বসাতে দেরি হচ্ছে। সেতুর ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩ নম্বর পিলারের ওপর ৪টি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা আছে চলতি বছরের মধ্যে। সর্বশেষ ২৯ জুন মাওয়া প্রান্তের ১৫ ও ১৬ নম্বর খুঁটির ওপর বসে চতুর্দশ স্প্যানটি।

প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু অনুকূলে থাকলে বুধবার সকাল থেকে শুরু হবে স্প্যান বসানোর কার্যক্রম। দুই খুঁটির মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে এনে ভাসমান ক্রেনটিকে নোঙর করা হবে। এরপর পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে স্প্যানটিকে তোলা হবে খুঁটির উচ্চতায়। রাখা হবে দুই খুঁটির বেয়ারিংয়ের ওপর।

এক প্রকৌশলী জানান, পদ্মা সেতুর জন্য মোট ৩০টি স্প্যান এখন মাওয়ায়। এর মধ্যে ১৪টি স্প্যান খুঁটির ওপর বসানো হয়েছে। একটি জাজিরা প্রান্তের চর এলাকায় স্টোরেজ করে রাখা এবং আরেকটি স্প্যান ক্রেনে আছে। মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ১৪টি স্প্যান আছে। এর মধ্যে ৪টি স্প্যান ফিটিং করে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। ৪২টি খুঁটির মধ্যে এখন ১০টি পিলারের কাজ বাকি আছে। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর ৪, ৫, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ২৪, ২৫, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২ নম্বর পিলারে ১৪টি স্প্যান বসিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে ২১০০ মিটার।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ বহুমুখী সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা।