ইউনিয়ন আ'লীগের সম্মেলনের দ্বন্দ্বে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০১৯      

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দুই সভাপতি প্রার্থীর মধ্যে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে  হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে  মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের উত্তর গঙ্গারামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ আলম (৪৫) ওই  গ্রামের প্রয়াত আবদুল খালেক শেখের ছেলে।

নিহতের চাচাত ভাই বাবুল শেখ জানান, সোমবার উপজেলার গোহালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি সভায় উত্তর গঙ্গারামপুর গ্রামের মোশারফ মল্লিক ও ইমারত হোসেন কিনু মল্লিক সভাপতি প্রার্থী হন। ওই দুই সভাপতি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে সিন্দিয়াঘাট বাজারে তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সর্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। 

তিনি জানান, সংঘর্ষে  উভয়পক্ষের নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত চারজনকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। মোশারফ হোসেনের সমর্থক শাহআলাম রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি সংঘর্ষে আহত চাচাতো বোন মিনাকে দেখতে মঙ্গলবার দুপুরে রাজৈরের উদ্দেশে রওনা হন। এরপর থেকে  শাহআলম নিখোঁজ ছিলেন।

বাবুল আরও জানান, অনেক খোজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শাহ আলমকে কুমার নদের পাড়ে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে রাত ৮টার দিকে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ চন্দ্র মন্ডল জানান,  হাসপাতালে আনার অনেক আগেই শাহ আলমের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তিনি মৃতুর কারণ জানাতে পারেননি।

সংঘর্ষে আহত শাহ আলমের চাচাতো বোন মিনা অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিপক্ষ সভাপতি প্রার্থী  ইমারত হোসেন কিনু মল্লিকের সমর্থকরা  আমার ভাইকে হাত-পা বেধে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’ 

মুকসুদপুর উপজেলার সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ  এসআই আবুল বাসার বলেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর শাহ আলমের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

মুকসুদপুর থানার ওসি মোস্তফা কামাল পাশা জানান, এ ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।