নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৯      

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নিহত জেনারেটর ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক বাবলু

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় মাহমুদুল হক বাবলু (৫১) নামে এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার গভীর রাতে ফতুল্লা থানার হাজীগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাবলু পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং জেনারেটর ব্যবসায়ী ছিলেন। 

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ রাকিব নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। নিহত বাবলু হাজীগঞ্জ এলাকার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, মাহমুদুল হক বাবলুর ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি মেরামতের দোকান রয়েছে হাজীগঞ্জ বাজারে। পাশাপাশি তার জেনারেটর ব্যবসাও রয়েছে। রোববার রাত আড়াইটার দিকে তিনি কাজ শেষ করে তার দোকানের অদূরে হাজীগঞ্জ বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন। ওই সময় সেখানে আলম নামের স্থানীয় এক বখাটে মদ্যপ অবস্থায় তার দলবল নিয়ে সেখানে চা খেতে যায়। চা খাওয়ার একপর্যায়ে আলম বাবলুকে উদ্দেশ করে বলে, বাবলু জেনারেটর ব্যবসা চালানোর উপযুক্ত নয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আলমের নেতৃত্বে তার ছোট ভাই রাকিব, সহযোগী খালেক, পলাশসহ আরও কয়েকজন বাবলুকে রাস্তায় ফেলে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান বাবলু। পরে তারা বাবলুর লাশ ঘটনাস্থল থেকে টেনেহিঁচড়ে তার বাসার সামনে নিয়ে বাড়ির প্রধান গেটে লাথি মারতে থাকে। ওই সময় নিহত বাবলুর ছোট ভাই মাহমুদুল হক লিটন গেট খুলে বাইরে এলে আলম ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে বলে, দেখ তোর ভাইকে মেরেছি। ওই সময় লিটন জানতে চায় কী হয়েছে? এ প্রশ্ন করার পর আলম ও তার সহযোগীরা লিটনকেও মারধর করে।

পরে লিটন চায়ের দোকানদারসহ অন্যদের সহযোগিতায় বাবলুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে নগরীর নারায়ণগঞ্জ তিনশ' শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত বাবলুর খালু জাতীয় পার্টি নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খোন্দকার বলেন, বাবলু শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিল। বছরখানেক ধরে তলল্গা এলাকার বেনু মিয়ার ছেলে আলম ও তার ভাইয়েরা জোর করে বাবলুর জেনারেটর ব্যবসা দখল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ব্যবসা দখল করতে না পেরেই সংঘবদ্ধভাবে আলম বাহিনী রাতের আঁধারে বাবলুকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

ওসি আসলাম হোসেন জানান, বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।