রেললাইনের পাশে ঘাস খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে বাঁধা হয়েছিল গরু। ঘাস খেতে খেতে এক সময় গরুটি চলে যায় রেললাইনের মাঝখানে। আর তখনি চলে আসে যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেন। গরুটি লাইন থেকে সরতে না পারায় এগিয়ে যান ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধা। তিনি গরুটিকে ট্রেনের নিচে চাপা পড়া থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু গরুটিকে বাঁচাতে পারলেও গরুর দড়িতে প্যাঁচ লেগে বৃদ্ধাই ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রুটে পানুর গ্রাম সংলগ্ন রেললাইনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বৃদ্ধার নাম আছিয়া বেগম। তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের মৃত রওশন আলীর স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের রেললাইন সংলগ্ন পানুর পানুর গ্রামে নিজের মেয়ের বাড়িতে বসবাস করছিলেন।

মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের জিআরপি ফাঁড়ি থানার ইনচার্জ সমর বড়ুয়া জানান, সকালে রেললাইনের ওপর বৃদ্ধার মেয়ের একটি গাভীকে ঘাস খাওয়ার জন্য দড়ি দিয়ে রেললাইনের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। সকাল ১০টার দিকে মংমনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেনটি পানুর নামক স্থানে আসলে বৃদ্ধা গরুটিকে বাঁচাতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। খবর পেয়ে জিআরপি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ওই নারীর দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই বৃদ্ধার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।