সাত মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে স্বামীকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক নারী। মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মৌসুমী হোসেন মুন্নী।

সংবাদ সম্মেলনে মুন্নি জানান, ২০১৯ সালের ১ মে পারিবারিকভাবে ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা জাপান প্রবাসী জুয়েল শিকদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার দেওয়া হয়। বিয়ের ১৭ দিন পর জুয়েল জাপানে চলে যান। এর পর সাড়ে ৩ মাস পর দেশে আসেন। বিশেষ টাকার প্রয়োজন দেখিয়ে তার স্বর্ণালঙ্কারগুলো জুয়েল বিক্রি করে দেন। এর কয়েক মাস পর জুয়েল যৌতুক হিসেবে ১০ লাখ টাকা টাকা দাবি করেন। এতে অপারগতা দেখালে জুয়েল তাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে অন্তঃসত্বা মৌসুমি জানতে পারেন তাঁর স্বামী তাকে বিয়ে করার আগে আরো ৩টা বিয়ে করেছেন এবং ২ স্ত্রীকে নিয়ে জাপানে বসবাস করছেন। অপর স্ত্রীকে আলাদা বাসাভাড়ায় রাখছেন। তাকে বিয়ের করার আগে এসব কথা গোপন রাখেন জুয়েল।

তিনি জানান, তাদের দুই বছরের সংসার জীবনে ৭ মাস আগে জান্নাতুল মেহেক রাইসা নামের এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এরপর থেকে স্বামী তাকে অপমান, অবহেলা, নির্যাতন বাড়িয়ে দেন। পরে গত ডিসেম্বর মাসে তাকে না জানিয়ে ফরিদপুরে ৫ম বিয়ে করেন জুয়েল। বর্তমানে জুয়েল তার সঙ্গে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। এসব ঘটনায় চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বামী জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী। পরের দিন জুয়েলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তবে এখনও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ওই নারীর মা শেফালী, বোন মৌমিতা, মামা মিজানুর রহমান, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান লক্ষ্মী চ্যাটার্জী উপস্থিত ছিলেন।

জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান লক্ষ্মী চ্যাটার্জী বলেন, প্রতারক জুয়েলকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংস্থার পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী ওই নারীকে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।


মন্তব্য করুন