কিশোরগঞ্জের হাওরে আগাম বন্যার পানি থেকে বোরো ধান রক্ষায় জন্য নতুন করে ৫৪টি ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামসহ কয়েকটি উপজেলায় এসব বাঁধ হবে। আগের বাঁধগুলো সংস্কারের পাশাপাশি নতুন বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে হাওরের কৃষক পরিবারগুলো। 

সঠিক সময়ে বাঁধগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন হাওরের জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা।

৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৩ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এসব বাঁধের নির্মাণকাজ আগামী শনিবারের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে ৫০ ভাগ কাজ। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদী পাউবো কর্মকর্তারা।

বাঁধগুলো সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, তা দেখতে সম্প্রতি ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে এর নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মতিন সরকারের নেতৃত্বে একটি দল। পাউবো ময়মনসিংহ পৌর সার্কেলের তত্ত্বাধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ, কিশোরগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমান ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কামরুল হাসান এই দলে ছিলেন।

এ সময় প্রধান প্রকৌশলী বলেন, এবার বাঁধ নির্মাণে কোনো প্রকার গাফিলতি ও অনিয়ম সহ্য করা হবে না। কৃষকদের বুঝিয়ে তাদের জমির ওপর বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এ জন্য কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে এ মাসের মধ্যে বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হবে।

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) আসনের সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতির ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক জানান, আগের বাঁধগুলো মেরামতের পাশাপাশি ৫৪টি নতুন বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। সঠিক সময়ে বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ফসল রক্ষায় হাওরের চারপাশে বেষ্টনী গড়ে তোলা হচ্ছে। তাই আশা করছি, আগাম বন্যা হলেও জমিতে পানি ওঠার আগেই কৃষক তার ধান কেটে গোলায় তুলতে পারবেন।

মন্তব্য করুন