পাড়া-মহল্লা ও হাট-বাজারে ভিক্ষা করে সংসার চালান ষাটোর্ধ্ব আবদুল হামিদ। এক দিন ভিক্ষা না করলে তার চুলোয় আগুন জ্বলে না। অনাহারে থাকতে হয়। বন বিভাগের জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ তুলে আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে পরপর তিনটি মামলা করেছেন এক বন কর্মকর্তা। অথচ তিনি এসবের কিছুই জানেন না। প্রকৃত ভূমিদস্যুকে রক্ষা এবং নিজের গা বাঁচাতেই ওই ভিক্ষুককে বন মামলার আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এক মামলায় তিন মাস জেলও খেটে সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে ফের ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেছেন আবদুল হামিদ। ভিক্ষার চাল বিক্রি করে তিনি মামলার খরচ চালাচ্ছেন বলে জানান তার আইনজীবী। গাজীপুরের শ্রীপুর রেঞ্জের কাওরাইদের বলদীঘাট বিট কর্মকর্তা আইয়ুব খান প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করতে পার্শ্ববর্তী যুগীরসীট গ্রামের মৃত একাব্বর শেখের ছেলে হামিদকে আসামি করে মামলাগুলো করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, কাওরাইদ এলাকায় বন বিভাগের জমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন সিরামিক কারখানায় বিক্রি করে ফেলে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এই মাটি বিক্রির টাকার বড় একটি অংশ যায় স্থানীয় বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পকেটে। বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলদীঘাট বিট কর্মকর্তা আইয়ুব খানকে। তিনি দায়সারাভাবে ভিক্ষুক আবদুল হামিদসহ নিরীহ মানুষজনের বিরুদ্ধে পরপর তিনটি মামলা করেন। মামলায় প্রধান সাক্ষী হিসেবে বনপ্রহরী মোরশেদ আলমের নাম লেখা রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হামিদকে তিনি মাটি কাটতে দেখেননি। তাকে না জানিয়েই মামলার সাক্ষী হিসেবে নাম লেখা হয়েছে।
আবদুল হামিদ জানান, জীবনের শেষ বেলায় এসে বন বিভাগের মিথ্যা মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেন না। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে মানুষ যা দেন তা দিয়েই সংসার চালান। অথচ, যারা মাটি কেটে বিক্রি করেন তাদের কেউ এসব মামলায় আসামি হননি। মাটির ব্যবসা করার সাধ্য ও সামর্থ্য কোনোটিই নেই তার।
শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুল হক বলেন, ওই বিট থেকে আইয়ুব খানের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। তিনি বলেন, আবদুল হামিদ ভিক্ষুক নন, তার অনেক টাকা আছে। তিনি মাটি কাটার কাজ করেন। সে কারণে মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন