শরীয়তপুর জেলা কারাগার থেকে জামিনের আদেশ পাওয়া আসামি লিটন সিকদারের বদলে বের হয়ে গেছেন লিটন ফরাজি নামে আরেক আসামি।

গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যার এ ঘটনায় কারারক্ষী মো. ইব্রাহিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কারাগারের জেলার আমীরুল ইসলাম ও ডেপুটি জেলার হোসেনুজ্জামানের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্তে বরিশাল বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) টিপু সুলতানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। মঙ্গলবার কমিটির সদস্যরা শরীয়তপুর জেলা কারাগার পরিদর্শন করে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেন।

ঘটনাটি জানাজানির পর মঙ্গলবার দুপুরে কারারক্ষী মো. ইব্রাহীমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কীভাবে এ ঘটনাটি ঘটেছে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে জেলার আমীরুল ইসলাম ও ডেপুটি জেলার হোসেনুজ্জামানের কাছে। ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা সহকারী কারারক্ষী ডি এম কালাম, কারারক্ষী মনিরুল ইসলাম ও উজ্জ্বল মিয়ার কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।

জেলা কারাগার সূত্র জানায়, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানার একটি চুরির মামলার আসামি লিটন ফরাজি ও লিটন সিকদার। তারা দুজন রাজবাড়ী ও খুলনার দুটি মামলারও আসামি। লিটন ফরাজি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দামুরকাঠি গ্রামের আবদুর রব ফরাজির ছেলে। আর লিটন সিকদার খুলনার খালিশপুরের আনোয়ার সিকদারের ছেলে। গত ১১ মার্চ তাদের শরীয়তপুর জেলা কারাগারে আনা হয়।

গত ৪ এপ্রিল শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে গোসাইরহাট থানার ওই মামলায় তাদের জামিন দেওয়া হয়। খুলনা ও রাজবাড়ীর মামলায় লিটন সিকদারের জামিন থাকলেও লিটন ফরাজির জামিন ছিল না। আদালত থেকে চুরির মামলায় জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছালে কারা কর্তৃপক্ষ লিটন সিকদারকে না ছেড়ে লিটন ফরাজিকে সন্ধ্যায় ছেড়ে দেয়। আর লিটন সিকদারকে আটক রাখে।

লিটন সিকদারের স্বজনরা বিষয়টি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তখন তাদের নজরে আসে নামের ভুলে লিটন ফরাজি কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন। পরে সোমবার রাতে লিটন সিকদারকে জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

জামিনে মুক্ত হওয়া লিটন সিকদার বলেন, ‘আমরা দুজন একই মামলার আসামি। রোববার যখন লিটন ফরাজিকে ছেড়ে দেয় তখন আমি কারা কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম, অন্য মামলায় তার জামিন নেই। আমার সব মামলায় জামিন আছে আমাকে মুক্তি দিন। কিন্তু তারা তা আমলে নেয়নি।’

জেলা কারাগারের সুপার গোলাম হোসেন বলেন, অসতর্কতার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। জামিনের কাগজ আসার পরে তা যাচাই বাছাই করে হাজতিদের মুক্তি দেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় জেলার, ডেপুটি জেলার ও একজন কারারক্ষী যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর দুজন কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তাদের ব্যাখ্যা পেলে তা ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। তারাই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।