মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র হাজী আব্দুস সালামের রামগোপালপুরের বাড়িতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তের পর জানিয়েছেন জেলা পুলিশের সিআইডি বিভাগ। 

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জেলা সিআইডির পুলিশ সুপার নাসিমা আক্তার সমকালকে বলেন, রান্নাঘরের গ্যাসের চুলার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে। 

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু ইউছুফ সমকালকে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্ফোরক বা গানপাউডার জাতীয় কোনো দ্রব্য পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের চুলার লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, সিআইডির স্পেশাল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।

তবে মিরকাদিম পৌর মেয়র আব্দুস সালাম দাবি করেছেন, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একটি মহল তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাল ব্যাগ ভর্তি বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য তার বাসভবনের তৃতীয় তলার ডাইনিং রুম ও রান্নাঘর সংলগ্ন বেডরুমের দরজার সামনে রেখে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। পৌর নির্বাচনে বিরোধীপক্ষরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

পৌর মেয়র বলেন, এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তার অফিস সহকারীকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাত পরিচয় কুচক্রী মহলকে আসামি করা হবে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র আবদুস সালামের রামগোপালপুরের বাড়িতে পৌর কাউন্সিলর ও পৌরসভার কর্মীদের নিয়ে সভা করছিলেন। সে সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মেয়রের স্ত্রী ও চারজন কাউন্সিলরসহ ১৩ জন দগ্ধ হন। দগ্ধ ১২ জন ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন। তাদের অনেকেরই শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে মেয়রের স্ত্রী কানন বালা গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হওয়ায় তাকে আইসিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। 

মন্তব্য করুন