দেশে করোনা সংক্রমণের মধ্যে এবারও হাওরাঞ্চলে শুরু হয়েছে ধান কাটার মৌসুম। সচরাচর ধান কাটার জন্য এপ্রিলের শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে দলবেঁধে শ্রমিকরা হাওরাঞ্চলে আসতে শুরু করেন। তবে এবার করোনার প্রভাব ও লকডাউনে হাওরে প্রয়োজনীয় শ্রমিক আসেননি। ফলে শ্রমিকের অভাবে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি আগাম বন্যার শঙ্কায় ফসল তোলা নিয়ে দিশেহারা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। 

এ রকম পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্থানীয় কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা হাওরের কৃষকের ধান কেটে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের গেরাজুর হাওরে অসহায় এক কৃষকের ধান কেটে দেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশে ধান কাটা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধান কাটায় অংশ নেন। তারা উপজেলার উত্তর গণেশপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ জালাল মিয়ার এক একর জমির ধান কেটে দেন।

কৃষক মোহাম্মদ জালাল মিয়া জানান, বোরো ধান আবাদে জমানো সব টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল তার। হাতে টাকা না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। এ ছাড়া এখন শ্রমিকেরও অভাব। এ জন্য জমির ধান পাকলেও কাটাতে পারছিলেন না তিনি। বুধবার এক একর জমির ধান কেটে দিয়েছেন কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা।

কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে গতবারও যখন কৃষক পাকা ধান নিয়ে বিপদে পড়েছিলেন, কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা তখন কৃষকের ধান কেটে ঝাড়াই-মাড়াই করে গোলায় তুলে দেন। গতবারের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কৃষক লীগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে কৃষকের ধান কেটে ঝাড়াই-মাড়াই করে দেওয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

কৃষক লীগ নেতা উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, কৃষক লীগ কৃষকের দুর্যোগ-দুঃসময়ে সবসময় তাদের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কৃষকের ধান কেটে গোলায় তুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

এ কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ বিশ্বনাথ সরকার বিটু, দপ্তর সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আহমদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আক্তারুজ্জামান শিপন প্রমুখ।


মন্তব্য করুন