নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় করা কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর ধর্ষণ ও সহিংসতার চারটিসহ পাঁচ মামলায় হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের বিরুদ্ধে তিন দিন করে মোট ১৫ দিনের রিমান্ড আদেশ হয়েছে।

বুধবার দুপুরে ভার্চুয়াল কোর্টে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবির এ আদেশ দেন। রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান এবং মামুনুল হকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়ন।

এর আগে ২ মে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবিরের আদালতে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) পক্ষ থেকে সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার মামলায় ১০ দিন, রয়েল রিসোর্ট কাণ্ডের মামলায় ৭ দিন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুরের মামলায় ৭ দিনসহ মোট ২৪দিন রিমান্ড আবেদন করা হয়। পরে আদালত ৯ মে রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন। সেদিন মামুনুল হকের অন্য মামলার কার্যক্রম থাকায় রিমান্ড শুনানি ১২ মে ধার্য করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, সোনারগাঁ থানায় করা ধর্ষণসহ তিন মামলার রিমান্ড আবেদন করার পর মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা আরও দুটি সহিংসতার মামলায় রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। এতে মোট ৫টি মামলায় ভার্চুয়াল কোর্টে শুনানি হয়েছে।

তিনি বলেন, শুনানিতে মামুনুল হকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ওমর ফারুক নয়ন। তিনি রিমান্ডের বিরোধিতা করে মামুনুল হকের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে আমি রিমান্ড প্রার্থনা করে আদালতে যুক্তি তুলে ধরেছি। আদালত শুনানি শেষে ৫ মামলায় তিন দিন করে ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম জানান, প্রত্যেক মামলার তদন্তকারী অফিসার যেহেতু ভিন্ন সেহেতু একজন করে তদন্তকারী অফিসার মামুনুল হককে তিন দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাবেন।

গত ৩০ এপ্রিল প্রলোভন, প্রতারণা, নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা জান্নাত আরা ঝর্ণা। মাওলানা মামুনুল হককে গত ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।



বিষয় : মামুনুল হক সোনারগাঁ হেফাজতে ইসলাম

মন্তব্য করুন