ফরিদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার শিবরামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ওই নেতার নাম কাজল ঘোষ (৩৬)। তিনি ফরিদপুর সদরের মাচ্চর ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের মৃত বিনয় ভূষণ ঘোষের ছেলে। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক কাজল ঘোষ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল ঘোষের ভাতিজা।

আহত কাজল ঘোষ জানান, তিনি মঙ্গলবার দুপুরে পত্রিকা আনার জন্য শিবরামপুর বাসস্ট্যান্ডে গেলে কোতোয়ালি থানা (সদর উপজেলা) ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত শাহ্‌, সাদ্দাম, আলাউদ্দিন শাহ্‌, জহির শাহ্‌, পাপুল, শহীদ ব্যাপারী, বায়েজিদসহ একদল যুবক হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার মাথা ও হাতসহ বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পুলিশের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই কৃষ্ণ কুমার জানান, ওই এলাকায় দুটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। এক পক্ষের দুই ছেলেকে রেলওয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করায় অন্য পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে স্টেশন এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে বিপুল ঘোষ সমকালকে বলেন, শিবরামপুর রেলস্টেশনে পদ্মা সেতুর কাজে ব্যবহূত পাথর নামানোর চুক্তি হয় পাথর ব্যবসায়ী শাহজাহানের সঙ্গে। এর বৈধ কাগজ রয়েছে আমার নামে। এই পাথর নামানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন কাজল ঘোষ।

বিপুল ঘোষ অভিযোগ করেন, সম্প্রতি প্রভাব খাটিয়ে ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক ভোলা মাস্টারের নির্দেশে তার আত্মীয়স্বজন, বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতের নেতাকর্মীরা দখল করে ইয়ার্ডটি। এ ঘটনায় তিনি রাজবাড়ী রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করেন। ব্যাপারটি রেলমন্ত্রীকে জানানো হলে তিনি রেলের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। রেলওয়ে পুলিশ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এজাহারভুক্ত আসামি রিমন ও তার সহযোগী রাজীবকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। এর পরই পাথর নামানোর কাজে নিয়োজিত কাজলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।

বিপুল ঘোষের অভিযোগ নাকচ করে ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক ভোলা মাস্টার সাংবাদিকদের জানান, বিপুল ঘোষের এ জাতীয় মিথ্যা মামলা করার ইতিহাস অনেক আছে। চলতি মামলাটিও তারই অংশ। তিনি বলেন, শিবরামপুরে কে কী ব্যবসা করে তা আমার দেখার বিষয় না, আমি দেখিও না, জানিও না। আমার সম্পর্কে বিপুল ঘোষ যে কথা বলেছেন তা নির্জলা মিথ্যাচার। এর খেসারত বিপুল ঘোষকে রাজনৈতিকভাবে দিতে হবে।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, শিবরামপুরে যে ঘটনা ঘটেছে তার নিন্দা জানাই। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও কোতোয়ালি থানার ওসিকে জানানো হয়েছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি এম এ জলিল জানান, এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন