ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পরকীয়ার টানে নিজের স্বামীকে হত্যা করে এক নারী তার প্রেমিকের প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়েছেন বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় ৬ মাস পর বৃহস্পতিবার খুনের আসল রহস্য উদঘাটন করেছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়, পরিকল্পনাকারী স্ত্রী হাফিজা বেগম (৪৫) ও পরকীয়া প্রেমিক আতিয়ার রহমান ভুলু মোলতাসহ (৬৫)  জড়িত আরো ২জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন প্রেমিক ভুলু মোলতার ছেলে সম্রাট (৩০) ও প্রেমিকা হাফিজা বেগমের ছেলে হোসাইন (২০)।

পুলিশ সূত্রে বলা হয়, ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর রাতে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের চরকান্দা গ্রামের সেকেন্দার আলী (৫০) খুন হয়। পরে বাড়ীর পাশে রাঘদার নামক বিলে লাশ ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। খুনের দু'দিন পর ২৭ অক্টোবর নিহতের স্ত্রী হাফিজা বেগম বাদী হয়ে প্রেমিকের প্রতিপক্ষ খোকন মোলতা ও খলিল মোলতা গংদের আসামী করে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্তে নেমে প্রায় ৬ মাস পর খুনের আসল রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাদ জানান, খুন হওয়া সেকেন্দারের স্ত্রী হাফিজার সঙ্গে ভুলু মোলতার দীর্ঘদিন পরকীয়া প্রেম ছিল। সেই সুযোগ নিয়ে প্রেমিক ভুলু মোলতা প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে প্রেমিকা হাফিজার স্বামীকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খুনিরা হত্যার সাথে তাদের সম্পক্ততার কথা স্বীকার করে লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। ২৫ অক্টোবর রাতে প্রেমিক ভুলু মোলতার পরিকল্পনা অনুযায়ী হাফিজা তার স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাড়ীর পাশের পুকুর পাড়ে নিয়ে আসেন। তখন ভুলু মোলতা ও তার ছেলে সম্রাট মোলতা সেকেন্দারকে কিলঘুসি, লাথি ও মুখ চেপে ধরলে এক পর্যায়ে তিনি মারা যান। পরে সেকেন্দারের লাশ অন্যত্র সরিয়ে নিতে নৌকায় তোলা হয়। এ সময় মৃত সেকেন্দারের ছেলে হোসাইন দেখে ফেলে। খুনিরা হোসাইনকে ঘটনা প্রকাশ করলে তাকেও তার বাবার মতো মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর হোসাইন আর কখনো মুখ খোলেনি। এক পর্যায়ে খুনিরা সেকেন্দারের লাশ রাঘদার বিলে ফেলে আসে। পরের দিন স্থানীয়রা লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতিতে খুনিরা নাটক সাজিয়ে কান্নাকাটির অভিনয় করে খুনের বিচার দাবি করে। পরের দিন স্ত্রী হাফিজা বাদী হয়ে প্রেমিকের প্রতিপক্ষকে আসামী করে হত্যা মামলা করেন।

উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাদ আরও বলেন, বৃহস্পতিবার হত্যাকারীরা ফরিদপুরের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন। আসামীদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন