রাজধানীর দারুসসালাম এলাকা থেকে আন্তঃদেশীয় অস্ত্র ব্যবসায়ী চক্রের মূলহোতা ছাত্রলীগ নেতা আকুল হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চক্রটি এ পর্যন্ত দুই শতাধিক অস্ত্র বিক্রি করেছে। তারা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে সীমান্ত পথে অস্ত্র সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলার সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার পাঁচজনকে গতকাল তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি।
বুধবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন- ইলিয়াস হোসেন, আবুল আজিম, ফজলুর রহমান ও ফারুক হোসেন। তাদের কাছ থেকে আটটি বিদেশি পিস্তল, ১৬টি ম্যাগাজিন, আটটি গুলি ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। চক্রটির মূলহোতা আকুল হোসেন যশোরের শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি। তিনি ২০১৯ সালেও অস্ত্রসহ বেনাপোল থেকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে বেরিয়ে একই কাজে ফিরে যান তিনি।
পুলিশ বলছে, সম্প্রতি রাজধানীর ভাসানটেকে এক ঠিকাদারকে গুলির ঘটনায় ব্যবহূত অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর অস্ত্রের উৎস অনুসন্ধানে নেমে চক্রটির সন্ধান পায় ডিবির গুলশান বিভাগ। এরপরই চক্রের হোতা আকুল ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বেনাপোল ও শার্শা উপজেলার বাসিন্দা। আকুলের বিরুদ্ধে যশোরে অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গোয়েন্দারা জানতে পারেন, আন্তর্জাতিক অস্ত্র কেনাবেচা দলের সদস্যরা কিছু অস্ত্র ও গুলি নিয়ে সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রাইভেটকারে গাবতলী হয়ে ঢাকায় ঢুকবে। এই তথ্যে বুধবার রাতে ডিবির গুলশান বিভাগ দিয়াবাড়ী ও কল্যাণপুরমুখী রাস্তায় অবস্থান করে। রাত সোয়া ৩টায় বেড়িবাঁধ বড় বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো ভারতে তৈরি। বেনাপোল সীমান্ত হয়ে এসব অস্ত্র প্রবেশ করছে। চক্রটি এসব অস্ত্র যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে। চক্রটির মূলহোতা আকুল ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক অস্ত্র বিক্রি করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। প্রতিটি অস্ত্র চক্রটি কিনেছে ২৮ থেকে ৫০ হাজার টাকায় এবং বিক্রি করেছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায়। চক্রটি অস্ত্র ব্যবসা ছাড়াও তক্ষক প্রতারণা, সীমান্ত পিলার, সাপের বিষ, স্বর্ণ চোরাচালান, প্রত্নতত্ত্ব প্রতিমা, আইস ও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, অস্ত্রগুলো ছিনতাই, চুরি, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের কাজে ব্যবহার হয়। তবে আগামী নির্বাচনকে টার্গেট করে কোনো গোষ্ঠী এসব অস্ত্র সংগ্রহ করছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে দারুসসালাম থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। গতকাল তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত পাঁচজনকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।