রাজধানীর শাহবাগের পরীবাগ এলাকায় দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা স্থান থেকে ইভানা লায়লা চৌধুরী (৩২) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়।

তিনি স্কলাস্টিকা স্কুলের ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সিলর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বজন ও পুলিশের ধারণা, দাম্পত্য কলহের জের ধরে তিনি ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার সমকালকে বলেন, দুর্ঘটনাবশত তিনি ছাদ থেকে পড়ে যান না-কি এটি আত্মহত্যা, তা তদন্তের পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে কিছুটা অসুস্থ মনে হয়েছে। ছাদের রেলিং টপকানোর আগে তিনি ঢুলছিলেন। এটি আত্মহত্যার ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। আপাতত এ বিষয়ে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, পরীবাগের সাকুরা গলির ২/ক/১৪ নম্বর ভবনের পঞ্চম তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন ইভানা। তার স্বামী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান পেশায় আইনজীবী। ২০১১ সালে তাদের বিয়ে হয়। আরমান (৮) ও আয়মান (৬) নামে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। কিছুদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। এরমধ্যে বুধবার দুপুরে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে নয়তলা ভবনটির ছাদে যেতে দেখা যায়। পরে বিকেলে ভবনের একপাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।

ইভানার বাবা আমান উল্লাহ চৌধুরী সমকালকে জানান, গত সোমবার ইভানা তাকে জানিয়েছিলেন, স্বামীর সঙ্গে তার কলহ হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি স্বামীর বিয়ে বহির্ভুত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। বিষয়টি তিনি তার শ্বশুর-শাশুড়িকেও বলেছেন বলে জানান। মঙ্গলবার এ বিষয়ে তার শ্বশুরের সঙ্গে কথা বলেন আমান। তখন শ্বশুর আশ্বাস দেন, এ ধরনের কিছু হয়ে থাকলে তিনি ছেলের বিপক্ষেই অবস্থান নেবেন।

সর্বশেষ বুধবার এ নিয়ে আলোচনার জন্য দুই পক্ষের বসার কথা ছিল। সেজন্য আমান তার আরেক মেয়েকে নিয়ে বনানী থেকে পরীবাগে আসেন। দুপুর ২টার দিকে তারা বাসায় পৌঁছে কথা বলা শুরু করেন। তখন ইভানাকে ডাকতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি বাসায় নেই। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অন্যদের সঙ্গে আমান নিজেও ভবনের ছাদে যান। এই দলে তার জামাতাও ছিলেন। কিন্তু পাশের ভবনগুলো এত লাগোয়া যে নিচে কেউ পড়েছে কি-না, তা উপর থেকে বোঝা যায়নি। পরে রিকশা নিয়ে কিছুটা ঘুরে ভবনের আরেক পাশে যান স্বজনরা। তখন দুই ভবনের মাঝে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্বাস আলী জানান, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে খবর পাওয়ার পর মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করেছেন, তিনি অসুস্থ ছিলেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এরপর সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্নেষণ করে মনে হয়েছে, ইভানা ভবন থেকে লাফ দিয়েছেন। ছাদের কিনারে অল্প উঁচু রেলিং ছিল। তিনি সেই রেলিংয়ে ওঠেছিলেন।