নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক সমিতির মালিকের বিরুদ্ধে তিন শতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকেলে ফতুল্লার লালপুর এলাকায় অবস্থিত ওই সমিতির অফিস ও অফিস-সংলগ্ন মালিক সালাহউদ্দিন মুক্তির বাসা ঘেরাও করে গ্রাহকরা টাকার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ শেষে আজ মঙ্গলবার থানায় অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রাহকরা ফিরে যান। সমিতির মালিক সালাহউদ্দিন মুক্তি লালপুর এলাকার মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে।

লালপুর ভাই ভাই ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় নামে ওই সমিতির গ্রাহক ময়না বেগম জানান, এ সমিতিতে মাসে ৫০০ টাকা করে ডিপিএস করেছেন তিনি। মাসে ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে টাকা জমা দিতে না পারলে ৫০ টাকা করে জরিমানা নিতেন সমিতির মালিক সালাহউদ্দিন। এর মধ্যে সমিতিতে ময়নার প্রায় ৫০ হাজার টাকা জমা হয়েছে। সেই টাকা চেয়ে অনেক দিন ধরে ঘুরছেন তিনি। সোমবার বিকেলে টাকা দেবে বলে সালাহউদ্দিন সমিতির অফিসে আসতে বলেন। তার কথামতো এসে ময়না দেখেন অফিসে তালা দিয়ে আত্মগোপন করেছেন সালাহউদ্দিন। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। পরে তার বাসায় গিয়ে জানতে পারেন তিনি বাসায়ও নেই। কোথায় গেছেন তা কেউ বলতে পারে না।

গ্রাহক শহিদুল ইসলাম জানান, সরকার অনুমোদিত রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৩৪৪ দেখে লালপুর ভাই ভাই ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতিতে ডিপিএস করেন তিনি। তার মতো তিন শতাধিক নারী-পুরুষ এ সমিতিতে গ্রাহক হয়েছেন। প্রায় সাত-আট বছর ধরে সমিতিটি চলছে। সম্প্রতি এ সমিতির মালিক গ্রাহকদের টাকা দিতে টালবাহানা করতে থাকেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে অনেক গ্রাহকই টাকা ফেরত চান। এতে সমিতির মালিক সালাহউদ্দিন মুক্তি টাকা না দিয়ে আত্মগোপন করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে সালাহউদ্দিন মুক্তির মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান, তিনি গ্রাহকদের বিক্ষোভের বিষয়টি শুনেছেন। কিন্তু কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।