বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে গাজীপুর সিটি মেয়র মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের বিক্ষোভের জের ধরে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো মহানগর। বিষয়টি নিয়ে তিন দিন ধরে মেয়রের বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। তবে শুক্রবার 'অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি ও মেয়রের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করার' প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের লাখো নেতাকর্মী নেমে আসে রাজপথে।

মহানগরের ৫৭টি ওয়ার্ড থেকে দলের নবীন ও প্রবীণ নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ড বাজার এলাকায় এসে জড়ো হন। সভাস্থলে সিটি মেয়র পৌঁছার আগেই কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থান নেন তারা। বোর্ড বাজারের ইউটিসি চত্বরে তৈরি করা মূল মঞ্চে মেয়র পৌঁছার ঘণ্টা দুই আগে থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের যান চলাচল। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অন্তত ২০ হাজার দলীয় নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে সভাস্থলে আসেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। একপর্যায়ে সভায় আসা দলীয় নেতাকর্মীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায় বলেন জানান অংশগ্রহণকারীরা। মহানগর আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুকুটমণি হিসেবে ভূষিত হওয়ায় আনন্দ মিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। একপর্যায়ে এ আনন্দ মিছিল ও আলোচনা সভা বিক্ষোভে রূপ নেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্য, আওয়ামী লীগের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত। মিথ্যা মিথ্যাই থাকবে, ষড়যন্ত্রকারীরা যত বড় শক্তিশালীই হোক, এক সময় তাদের মুখোশ খুলবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের মোকাবিলা করব।’

সভায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কাজী মোজাম্মেল হক, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ নয়ন, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এস এম মোকছেদুল আলম, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এস এম আলতাব হোসেন, মহানগর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ বিএসসি ও মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিনা ইউনুস।