টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ-রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া-রংপুর ও বগুড়া-সিরাজগঞ্জ-নগুড়াবাড়ি মহাসড়কে বুধবার দিনভর তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রী ও চালকরা অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন। সিরাজগঞ্জের নলকা সেতুতে মেরামত কাজ শুরু করেছে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ)। এ কারণে কয়েক দিন ধরে এ পথে ঢাকা-উত্তরাঞ্চলের যাত্রী ও পরিবহন চালকদের ভোগান্তি শুরু হয়। কয়েক দিন ধরেই থেমে থেমে যানজট হচ্ছিল। কিন্তু বুধবার তীব্র যানজট দেখা দেয়।    

বুধবার দুপুরে সরেজমিন সওজের মেরামত কাজ পরিদর্শনে দেখা যায়, নলকা সেতুর উপরিভাগে মেরামত-সংস্কার কাজ অব্যাহত রাখতে কয়েক দিন ধরে এর উভয় দিকেই কৌশলে দূরপাল্লার বাস-ট্রাককে থেমে থেমে আটকে রাখা হচ্ছে। সওজের পাশাপাশি জেলা, হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর থাকার পরও যানজট সহনীয় পর্যায়ে থাকছে না।

এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে যানজট থাকায় দূরপাল্লার বাস-ট্রাকগুলো মহাসড়ক এড়িয়ে জেলা সদরের মুলিবাড়ি, কড্ডা, রায়গঞ্জের নলকা, সাহেববাজার ও ধানগড়া এবং কাজীপুরের সোনামুখীর বা ভেতরের পথ দিয়ে পুনরায় মহাসড়কে উঠছে। এ কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের ফুলজোড় নদীর ওপর সওজ নলকা সেতু নির্মাণ করেছিল। ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে এ সেতুর ওপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কমপক্ষে ২২ জেলার যানবাহন চলছে। এরপর থেকে সেতুটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারী যানবাহনের চাকার ক্রমাগত চাপে নলকা সেতুর উপরিভাগে প্রায় আড়াই দশক ধরেই 'জয়েন্ট এপপানশন' ও বিটুমিনের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। প্রতি বছরই সওজকে সেতুটিতে মেরামত-সংস্কার করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি বছরই নাকাল হতে হচ্ছে যাত্রীসাধারণকে।

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শমিরন রায় বলেন, 'বৃহস্পতিবার (আজ) পর্যন্ত এ মেরামত কাজ চলবে। আশা করি, শুক্রবারের পর থেকে আর বিড়ম্বনা থাকবে না।'

নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার বলেন, 'সেতুর পশ্চিম ঢালে ছোট-বড় গর্ত হয়েছে। এগুলো মেশিন দিয়ে কেটে তুলে ফেলে দ্রুত কার্পেটিং কাজ হচ্ছে। এ ছাড়া সেতু উপরিভাগে ভারী ও পুরু লোহার পেল্গট দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হচ্ছে। এরপর উপরিভাগে বিটুমিন ও পাথরের ঘন পুরু প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। এ মেরামত কাজের জন্য যানবাহন কৌশলে এক লেনে আটকে রেখে অন্যটি চালু রাখা হচ্ছে। পাশে সওজের সাসেপ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে পৃথক আরেকটি বড় সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি চালু না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের সমস্যা থাকবে।'

হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশের ট্রাফিক ইনস্পেক্টর (টিআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, নলকা সেতুর উপরিভাগ ও পশ্চিমপাড়ে প্রায়ই খানাখন্দ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচলে গতিসীমা কম রাখতে গিয়ে মহাসড়কে যানজট হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ বেড়েছে।

নলকা সেতুর মেরামত কাজের পাশাপাশি যানবাহন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছেন জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইনস্পেক্টর (অ্যাডমিন) মো. সালেকুজ্জামান খান। তিনি দুপুরে বলেন, 'সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। প্রতি বছরই এর কারণে চালক-যাত্রী বিড়ম্বনা বাড়ছে। অন্যদিকে যানজট শুরু হলে পুলিশেরও ঘুম থাকে না। তাই আগেভাগেই সওজ সচেতন হলে ভালো হয়। দেরিতে হলেও অবশেষে মেরামত কাজ শুরু করেছে সওজ। এতে চালক-যাত্রী বিড়ম্বনা ভবিষ্যতে খানিকটা কমবে।'


বিষয় : সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ নলকা সেতু

মন্তব্য করুন