মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে রাজবাড়ী শহরবাসী। মশার কামড়ে অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ। অনেকেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষার্থীদের। রাজবাড়ী পৌরসভার মধ্যে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ, আবর্জনা, ড্রেন, নালা ইত্যাদির কারণে মশার বংশবিস্তার ত্বরান্বিত হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, মশা মারার জন্য বরাদ্দের অর্থ শেষ হয়ে গেছে।

'ক' শ্রেণিভুক্ত রাজবাড়ী পৌরসভার আয়তন ১১.৬৬ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ৫৬ হাজার। মশা নিধনের জন্য দুই কিস্তিতে ৯ লাখ এক হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল, যা শেষ হয়ে গেছে। তবে গত অর্থবছরে মশক নিধনে কত টাকা বরাদ্দ এসেছিল পৌর কর্তৃপক্ষ তা জানাতে পারেনি। পৌরসভার ওষুধ ছিটানোর জন্য ফগার মেশিন রয়েছে ছয়টি। এর মধ্যে চারটি মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। অন্য দুটি মেশিনও সম্প্রতি নষ্ট হয়ে গেছে।

পৌর কর্তৃপক্ষের মতে, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে টানা তিন মাস মশা নিধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন মশা নিধনের জন্য ৩০ হাজার টাকার ওষুধ দরকার। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ বাজেট না থাকায় তাদের করণীয় কিছু নেই।

সূত্র জানায়, রাজবাড়ী পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছে ১০০ জনের বেশি, যাদের বেতন দেওয়া হয় পৌরসভা থেকেই।

পৌরসভার একজন কর্মচারী জানান, মশা নিধনের জন্য মেশিনগুলো এক সপ্তাহ ব্যবহার না করলে নষ্ট হয়ে যায়। ১২ হাজার টাকা খরচ করে একটি মেশিন মেরামত করা হলেও পরে সেটিও নষ্ট হয়ে যায়। তবে কিছু ওষুধ এখনও আছে।

রাজবাড়ী শহরের মধ্যে যে ড্রেনগুলো তৈরি করা হয়েছে, সে ড্রেন থেকে পানি বের হওয়ার মুখগুলো ময়লায় ভরাট হয়ে গেছে। যেখানে-সেখানে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। ফলে ওইসব স্থানে পানি জমে মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে। ড্রেনের পানি বের হওয়ার পথে মার্কেট ও বহুতল ভবন নির্মাণসহ নানাবিধ সমস্যার কারণেও বাড়ছে মশার উপদ্রব। শহরবাসী মশার উপদ্রব থেকে পরিত্রাণ চায়।

পৌরসভার বিনোদপুর ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামনা রানী জানান, ফ্যান দিয়েও মশার হাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। মশার জন্য কোনো কাজ করতে পারেন না। বিদ্যুৎ চলে গেলে ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে মশার কামড়ে ঘরে থাকাই দায়।

পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফয়সাল হোসেন জানান, যেখানে-সেখানে ময়লার ভাগাড় তৈরি করায় পৌরসভা মশার কারখানায় পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিত ড্রেনে পানি জমে থাকায় মশার প্রজনন বাড়ছে। তাদের ওয়ার্ডে কখনও মশা মারার জন্য কোনো কার্যক্রম দেখেননি তিনি।

সজ্জনকান্দা গ্রামের অভিজিৎ সোম অভি জানান, মশার অত্যাচার ভয়ানক অবস্থায় পৌঁছে গেছে। ঘরে মশা, বাইরে মশা। মশা নিধনে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

রাজবাড়ী পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোফাজ্জেল হোসেন বকুল জানান, ড্রেনের ভেতরে মশার লার্ভা মারতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। রাজবাড়ী পৌরসভার উদ্যোগে যেভাবে স্প্রে করা হয় তাতে উড়ন্ত মশা মারা যায়। কিন্তু মশার ডিম থেকেই যায়। লার্ভা মারার জন্য আলাদা একটা স্প্রে আছে, সেটা করলে মশার বংশ বিস্তারই হবে না। সেই স্প্রে রাজবাড়ী পৌরসভার নেই। উড়ন্ত মশা মারলে দেখা যায় সাতদিনের মধ্যে মশক পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।

রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র আলমগীর শেখ জানান, মশা নিধনের জন্য যে বরাদ্দ আসে, তা কয়েকদিন ব্যবহার করলেই শেষ হয়ে যায়। বছরজুড়ে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাজবাড়ী পৌরসভায় যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ নেই। ধারাবাহিকভাবে তিন মাস ওষুধ ছিটানোর জন্য ৫০ লাখ টাকার প্রয়োজন। তিনি পৌরবাসীকে বাড়ির আশপাশ পরিস্কার রাখার জন্য আহ্বান জানান।

সিভিল সার্জন ইব্রাহীম হোসেন টিটন এ প্রসঙ্গে বলেন, মশক নিধনে পৌরসভাকেই উদ্যোগী হতে হবে। সেই সঙ্গে মানুষকেও সচেতন হতে হবে। শহরের মধ্যে থাকা ড্রেন, নালা, আবর্জনা পরিস্কার করা উচিত। সাধারণ মানুষের উচিত পরিস্কার পানি জমে থাকে এমন বস্তু যেমন- ডাবের খোসা, টায়ার, ফুলের টব ইত্যাদি পরিস্কার রাখা। বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড়ও পরিস্কার করতে হবে।

তিনি জানান, মশার কামড়ে সাধারণত ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়া রোগ হতে পারে। বহু বছর ধরেই রাজবাড়ীতে ম্যালেরিয়া রোগ নেই। চলতি বছরে বেশ কয়েকজনের ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে।