পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনা মাথায় রেখে এবার রয়েছে বিশেষ নজরদারি। যেসব স্থানে দিবসটি ঘিরে কোনো আয়োজন থাকছে, সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে তৎপর থাকবেন গোয়েন্দারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার ফারুক হোসেন সমকালকে বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ঘিরে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায়। মাঠপর্যায়ে ও অনলাইনে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। সব মিলিয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, দিবসটি ঘিরে সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে কোনো পক্ষ যেন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে আগে থেকেই সতর্ক রয়েছে র‌্যাব-পুলিশ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের সব ইউনিটকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। কেউ যেন গুজব ছড়িয়ে বা কোনো অপকৌশলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডিএমপির এক কর্মকর্তা জানান, ঢাকা শহরের একাধিক স্থান থেকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মিছিল বের হতে পারে। সেই মিছিল যেন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মিছিল শুরুর স্থান ও চলার পথ ঘিরে নিরাপত্তার বিশেষ ছক রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিভিন্ন মোড় ও ভবনের ছাদে আইন -শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করবেন। এ ছাড়া দিবসটি ঘিরে আলোচনা সভা বা অন্যান্য আয়োজন থাকলে সেখানেও বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে।

পুলিশ-র‌্যাব সূত্র জানায়, অতীতে যারা গুজব, বিভ্রান্তি বা উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে, তাদের ওপর এবার তীক্ষষ্ট নজর রাখা হয়েছে। অনেক সময় পেছন থেকে কিছু ব্যক্তি ইন্ধন দিয়ে ও অর্থসহায়তা করে এসব ঘটনায় জড়িতদের উৎসাহ দিয়ে থাকে। ফলে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আর এসব ঘটনা পুঁজি করে নানা উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা চালায় ষড়যন্ত্রকারীরা। এ কারণে এবার সেই ইন্ধনদাতাদেরও বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।