ভারত ১০০ কোটি মানুষকে কোভিড-১৯ টিকাকরণের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।  বুধবার পর্যন্ত দেশটি ৯৯ কোটি ৭০ লাখ মানুষের টিকা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সেই সংখ্যাটি ১০০ কোটি ছাড়িয়ে যায়।  

বাংলাদেশস্থ ভারতের হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারতের ৭৪ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন।  আর ৩১ শতাংশ নাগরিক টিকার দুটি ডোজই পেয়েছেন। 

টিকাকরণের এই ইতিহাস তৈরির জন্য ডাক্তার, নার্স থেকে শুরু করে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক টুইটে নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, ‘ভারত ইতিহাস রচনা করল। ভারতীয় বিজ্ঞান ও তার উদ্যোগ এবং ১৩০ কোটি ভারতীয়ের সম্মিলিত চেতনার বিজয় প্রত্যক্ষ করছি। ১০০ কোটি টিকাকরণের জন্য ভারতকে অভিনন্দন। আমাদের ডাক্তার, নার্স এবং যারা এই কৃতিত্ব অর্জনের জন্য কাজ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

করোনা সংক্রমণ এড়াতে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুরু থেকেই দেশটির বিশেষজ্ঞরা টিকাকরণের উপর জোর দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারও টিকাকরণ কর্মসূচিতে শুরু থেকেই নজর রাখছিল। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি থেকে দেশটি টিকাকরণ অভিযান শুরু করে। ৪০ সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ১০০ কোটির মাইলফলকে পৌঁছায়। 

টিকাকরণ কর্মসূচিতে তিনটি টিকা ব্যবহার করেছে দেশটি। সেগুলো হলো যুক্তরাজ্যের অ্যাস্ট্রাজেনেকার সহযোগিতায় সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার উদ্ভাবিত কোভিশিল্ড, ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কোভ্যাক্সিন এবং রাশিয়ার স্পুটনিক ভি। এর মধ্যে স্পুটনিক ভির প্রায় ০.৪ মিলিয়ন ডোজ ছিল। এছাড়া বাকি ডোজের প্রায় সবই ভারতে উৎপাদন হয়েছে।

সারা দেশের ৩,১৩,০০০টি টিকাকেন্দ্র টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশই গ্রামীণ এলাকায় এবং সেখানে টিকা পাবার যোগ্য এমন নাগরিকের ৬৫ শতাংশকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আর এই কর্মসূচিতে ২,৬৪,০০০ জনেরও বেশি টিকাদানকারীসহ মোট  ৭,৪০,০০০ জনের টিকা দলকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল।