দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল ব্যহত হচ্ছে। ফলে সম্প্রতি প্রতিদিনই ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

আরিচা বিআইডব্লিউটিএর অফিস সূত্রে জানা গেছে, নৌ-রুটে বড় ফেরি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে ৯ থেকে ১০ ফুট পানির প্রয়োজন। কিন্ত বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে পলি এসে ফেরি চলাচলের চ্যানেল ভরে যাওয়ায় এখন এ নৌ-রটের চ্যানেলে পানির গভীরতা কমে গেছে। পাটুরিয়া ফেরি ঘাটের বেসিনে নাব্যতা সংকটের কারণে গত ১২ আগষ্ট থেকে একটি ড্রেজার দিয়ে পলি অপসারণ করা হচ্ছে। এদিকে পাটুরিয়া ৪ ও ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের বেসিনে নাব্যতা সংকট দেখা দেওয়ায় ঘাটে ফেরি ভিড়তে না পারার কারণে ৬ ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং করা হচ্ছে। দৌলতদিয়ায় একটি ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং করা হচ্ছে। তবুও স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচল করতে না পারার কারণে ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

ঢাকার গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সাকুরা পরিবহনের চালক মজিদ মোল্লা জানান, শনিবার সকাল ৮টার দিকে গাবতলী থেকে বাস ছেড়ে সকাল ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে আসেন। ঘাটে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচলে সমস্যা হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ফেরিতে উঠতে পারেননি তিনি। এরকম অনেক বাস ও ট্রাক চালকরাই ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন।

আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং ইউনিটের উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান জানান, পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের বেসিনে নব্যতা সংকটের কারণে দৌলতদিয়ায় একটি ও পাটুরিয়া ঘাটের বেসিনে ৬টি মোট ৭টি ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং করে চ্যানেল সচল রাখা হচ্ছে। গত ১২ আগষ্ট থেকে এ ঘাট এলাকায় ড্রেজিং শুরু করা হয়েছে।

আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসির এজিএম জিল্লুর রহমন জানান, এ নৌ-রুটের চ্যানেলে পানির গভীরতা দিন দিন কমে আসছে । আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন পাঠান জানান, নদীতে ড্রেজিং করে ফেরি চলাচল সচল রাখা হয়েছে। নদীতে দ্রুত পানি হ্রাস পাওয়ায় চ্যানেলের বেসিনে পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।