ফরিদপুরে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার মামলায় দুই সহোদর ভাইকে দণ্ড দিয়েছেন আদালত। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যুদণ্ড আরেকজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্রদীপ কুমার রায় এ রায় ঘোষণা করেন।

মনিরা বেগমকে (১৮) হত্যা ও ধর্ষণে দায়ে মৃত্যুদণ্ড ব্যক্তির নাম মো. সাহাবুদ্দিন খান (৩৫)। তিনি জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলাইরচর গ্রামের বাসিন্দা সেকেন্দার খানের ছেলে। যাবজ্জীবন দণ্ড পেয়েছেন তার ভাই সুমন খান (৩২)।

রায় ঘোষণার সময় দুই ভাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি দুই ভাইকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সাহাবুদ্দিন ও মনিরার বাড়ি আলফাডাঙ্গা সদর উপজেলার ধোলাইচর এলাকায়। সাহাবুদ্দিন মনিরাকে বিয়ে করার জন্য ২০১১ সালে প্রস্তাব দিলে মনিরার পরিবার তা নাকচ করে দেয়। প্রত্যাখ্যত হয়ে সাহাবুদ্দিন তার সঙ্গে কৌশলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

২০১১ সালের ৮ মার্চ সাহাবুদ্দিন গোপনে বাগেরহাট গিয়ে মনিরাকে নিয়ে এসে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে জানান তাকে বিয়ে করেছেন। এভাবেই বসবাস করতে থাকেন তারা। তবে পরে বিয়ের বিষয়টি ভুয়া প্রমাণিত হয়।

এজাহার সুত্রে জানা যায়, ওই বছরের ২৭ জুন সাহাবুদ্দিনের মা আছিয়া বেগম তার পুত্রবধূ ঝুমুর বেগমকে দিয়ে প্রতিবেশী মনিরাকে তার বাড়িতে ডেকে আনেন। পরে সাহাবুদ্দিন কেরোসিন ছিটিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় সাহাবুদ্দিনের ভাই সুমন খান লাঠি দিয়ে মনিরাকে পেটান।

২০১১ সালের ১১ জুলাই ঘটনার ১৪দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মনিরা। মৃত্যুর আগে মনিরা হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দিয়ে যান। তাতে তিনি সাহাবুদ্দিনের প্রতারণা করে ধর্ষণ এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া এবং সাহাবুদ্দিনের ভাই সামন খান লাঠি দিয়ে আঘাত করার কথা বলে যান।

এরপর ৪ জুলাই সাহাবুদ্দিন, সুমন খান, আছিয়া বেগম ও সুমনের স্ত্রী ঝুমার বেগমকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়।

বাদীপক্ষে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট ফরিদপুর ইউনিটের প্যানেল আইনজীবী আমিন- উর রহমান মামলা পরিচালনা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি স্বপন পাল বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিয়ের নামে ধর্ষণ এবং আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মতো মর্মান্তিক এ ঘটনায় আদালত থেকে ন্যায় বিচার পেয়েছেন তারা ।

আসামি পক্ষের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমরা এ বিষয়ে উচ্চতর আদালতে যাবো।