নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী শহরে দুর্গোৎসব চলাকালীন হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, পুজামন্ডপ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার আরও ৮ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে  নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী সোনিয়া আক্তার আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে বেগমগঞ্জ থানার ২৯নং মামলার আসামি ইলিয়াস ও মনির হোসেন হৃদয়ের ৪দিন, নূর মোহাম্মদের ২দিন, বেলাল হোসেন সুমনের ১ দিন, ২৭নং মামলার আসামি বেলাল হোসেনের ৩দিন, হুমায়ন কবির, সুজন ও কামাল হোসেনের ২দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এ নিয়ে চৌমুহনীতে হামলার ঘটনায় মোট ১১ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকালে নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।  

চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান পাঠান বলেন, আসামিদেরকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত ৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।    

জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, গত ১৫ অক্টোবর শুক্রবার বেগমগঞ্জের চৌমুহনীর বিভিন্ন মন্দিরে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করে তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান পাঠান। শুনানি শেষে আদালত বুধবার দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে ৮ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাদের বেগমগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়েছে।  

কুমিল্লায় পূজা মন্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১৫ অক্টোবর জুমার নামাজ শেষে বেগমগঞ্জের  চৌমুহনী শহরের বিভিন্ন মসজিদ থেকে কয়েক হাজার মুসল্লি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা চৌমুহনী ডিবি রোড, ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক, ব্যাংক রোড ও কলেজ রোডে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের দোকানপাট, মন্দির ও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। ওই  ঘটনায় ইস্কন মন্দিরের ভক্ত যতন সাহা (৪৫) ও প্রান্ত চন্দ্র দাস (৩০) নিহত হন। এরপর হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার লোক গত শনিবার সকালে চৌমুহনীতে প্রশাসনের দায়ের করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে চৌমুহনী - ফেনী সড়ক অবরোধ করেন। ওই অবরোধ থেকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে  বেগমগঞ্জ থানার ওসি ও ইউএনও নোয়াখালীর এসপি ও ডিসির প্রত্যাহার দাবি করা হয়। ওই ঘটনার পর পুলিশের চট্রগ্রাম বিভাগের ডিআইজি, বিভাগীয় কমিশনার, ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশার, ১৪ দলের নেতারাসহ অনেকে চৌমুহনী পরিদর্শন করেন।