তারা ভেবেই নিয়েছিলেন পদ্মা নদীর ভাঙনের তীব্রতা যতই হোক, অন্তত বাঁধের কাছাকাছি নদী চলে আসবে না। পদ্মার রুদ্ররূপে ভুল প্রমাণিত হলো তাদের ধারণা। 

রাজবাড়ী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা হতাশা আর দুঃখ নিয়ে তাদের বসতঘর সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অন্য স্থানে। 

বুধবার সকালে সরেজমিন এমন চিত্রই দেখা গেছে। বুধবার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম।

স্থানীয়রা জানায়, রেড়িবাঁধ সংলগ্ন অন্তত ২০টি পরিবার বাস করে। তাদের মধ্যে আবুল শেখ, রশিদ ব্যাপারী, রফিক ব্যাপারী, আলম হোসেন, সিরাজ ব্যাপারী, আজিজুল ইসলাম ব্যাপারী তাদের ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভাঙনস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন রোধে শ্রমিকরা বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলছেন নদীতে। এর মধ্যেই চলছে ভাঙন। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পদ্মার পাড়ে টাইলস দিয়ে দৃষ্টিনন্দন বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল। ভাঙনস্থল থেকে একটু দূরেই ছিল সেটি। কিছুক্ষণ পর ওই বেঞ্চটি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে দেখা যায়। রশিদুল ইসলাম নামে একজন জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ভাঙন এখনও অব্যাহত আছে। মঙ্গলবার রাতে এক ব্যক্তি নদীর পাড়ে রিকশা রেখে ভাঙন দেখতে গিয়েছিলেন। তার সেই রিকশা ভাঙনে নদীতে চলে যায়।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ জানান, ভাঙন রোধে সকাল থেকে এ পর্যন্ত ২০টি জিও টিউব ও ১৪০টি জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। ভাঙন রোধে যতগুলো প্রয়োজন ততগুলোই ফেলা হবে। নদী ও শহররক্ষা বেড়িবাঁধের কাছে চলে এলেও আতঙ্কের কারণ নেই বলে জানান তিনি।

ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে নদীর ওপর। উজানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজবাড়ী নিম্নাঞ্চলে হওয়ায় বড় বড় নদীর মাধ্যমে তা প্রবাহিত হয়ে এদিকে ধাবিত হয়েছে। পানির প্রবাহ যখন বাড়ে, তখন অপেক্ষাকৃত দুর্বল জায়গায় আঘাত করে। এর ফলেই সৃষ্টি হয় ভাঙন।