ফেসবুকে কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য প্রচার ও উস্কানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে আশীষ মল্লিক নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে এ অভিযান চালানো হয়। র‌্যাব বলছে, তিনি দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও সহিংসতা বিস্তারের অপতৎপরতা চালাচ্ছিলেন।

এ ব্যাপারে জানাতে বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল মোমেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশীষ সাইবার অপরাধে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক পাস করে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি গত ১৬ অক্টোবর একটি ফেসবুক পেজ খুলে তাতে এবং তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে উস্কানিমূলক বক্তব্য পোস্ট করে আসছিলেন। তিনি ও তার সমমনা কয়েকজন ওই পেজের অ্যাডমিন। খুব দ্রুত পেজের সদস্য ও ফলোয়ার কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যায়। ওই পেজে প্রতিবেশী দেশগুলোয় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার ভিডিও আপলোড করে জনমনে ভীতি তৈরিসহ উস্কানি দেওয়া হচ্ছিল। তিনি প্রতিটি পোস্ট হ্যাশট্যাগ করে এই দেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।

র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক বলেন, আশীষের ফেসবুক পেজে পার্বত্য জেলার একজন স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে বলা হয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হুমকি দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান। নোয়াখালীতে মারা যাওয়া এক ব্যক্তিকে পায়ের রগ কেটে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অপপ্রচার করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশীষের ধারণা, এ দেশে হিন্দু সম্প্রদায় নির্যাতিত। তাই তাদের নিয়ে নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উত্তেজিত হবেন। এটাই তার মোটিভ ছিল বলে আমাদের ধারণা। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।