বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অডিওর কণ্ঠটি তার নিজের বলে স্বীকার করেছেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র মো. আব্বাস আলী। শুক্রবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, স্থানীয় একটি মাদ্রাসার বড় হুজুরের পরামর্শে প্রভাবিত হয়ে তিনি ম্যুরাল না রাখার কথা কথাচ্ছলে বলেছিলেন। এটা তিনি ভুল করেছেন বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষমা চান। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ফেসবুক লাইভে আব্বাস আলী দাবি করেন, 'যে অডিওটা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে, সেটি আজ থেকে তিন-চার মাস আগের। আমার কথায় কোনো জায়গায় যদি ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, তবে আমাকে মাফ করে দেবেন।'

আব্বাস বলেন, 'ম্যুরালের বিষয়টা কীভাবে এলো তা পরিস্কার করতে চাই। আমার এখানে জামিয়া উসমানিয়া নামে মাদ্রাসা রয়েছে। ... যে বড় হুজুরের বিষয়টি এসেছে, তিনি ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।... তিনি আমাকে বললেন ম্যুরালটার বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আনা যায় কিনা? আমিও তো মুসলমান। ধর্মের পক্ষে, কুরআনের পক্ষে কথা বললে কার না মন নরম হয়? এর দু-একদিন পর সন্ধ্যায় আড্ডার ছলে আমি বলেছিলাম ম্যুরালটা ওখানে তৈরি করলে পাপ হবে।'

মেয়র বলেন, 'পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আমি মেনে নিয়েছি। আমার নামে তিনটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। আমার কাছের লোকজনদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।'
মেয়র দাবি করেন, পৌরসভার কাউন্সিলরদের ডেকে জোর করে ১২ জনের কাছ থেকে অনাস্থা প্রস্তাবে সই নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, 'আমি ভুল করে থাকলে আপনারা মনঃপূতভাবে দল থেকে অব্যাহতি দেন, মামলা দেন, শাস্তি দেন। কিন্তু বাসায় মাদক, অস্ত্র রেখে কারা যেন ফাঁসাচ্ছেন। আমি এত বড় অপরাধ করেছি? আমার ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে।'

মেয়রের ভাষ্য, 'আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আমি কখনও কোনো দল করিনি। আমি ২০০২ সালে মহানগর যুবলীগের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করি। আমি কোনো দল করিনি। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে, আমি অন্য দল করেছি তাহলে আমি আত্মহত্যা করব। বলা হচ্ছে, আমার শত শত কোটি টাকা। আমার ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে দেখেন, আমার কত টাকা।'