টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনে নিরুত্তাপ ভোটগ্রহণ চলছে। রোববার সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোট বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এই উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পর বেলা বাড়লেও ভোটার উপস্থিতি বেশ কম। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মির্জাপুর আর এস পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫ ভাগ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার।

এই আসনে এবারই প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হচ্ছে। আর প্রথমবার ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে অনেকেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। না বুঝে অনেকেই ভুল প্রতীকে চাপ দিয়েছেন। আবার অনেকের আঙ্গুলের ছাপ না মেলায় ভোট না দিয়েই ফিরে গেছেন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী খান আহমেদ শুভ সকাল ১১টার দিকে আর এস পাইলট কেন্দ্রে এসে বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে। ইভিএমে ভোট হচ্ছে। এখানে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে। আমার বিজয় নিশ্চিত।

এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল হক জহির সকালে আর এস পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট পর্যবেক্ষন করতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, তার বহু এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা বুথের ভেতরে ঢুকে ভোটরদের নৌকায় চাপ দিতে বলছেন। ভোটাররা ভয়ভীতিতে নৌকায় ভোট দিচ্ছেন। গণতান্ত্রিক একটি দেশে এভাবে ভোট হতে পারে না। অভিযোগ করেও তিনি কোন সুরাহা পাচ্ছেন না। 

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বেশ কম - সমকাল

উপনির্বাচন সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচনী এলাকায় একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪ প্লাটুন বিজিবি, ৮১০ জন পুলিশ সদস্য ও ১০টি র‌্যাবের মোবাইলটিমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রায় সাড়ে ১৮শ’ আনসার সদস্য কাজ করছেন। 

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, একটি পৌরসভা এবং ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসন গঠিত। এ উপনির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খান আহমেদ শুভ (নৌকা), জাতীয় পার্টির জহিরুল হক জহির (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির গোলাম নওজব চৌধুরী (হাতুড়ি), বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির রুপা রায় চৌধুরী (ডাব) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরু (মোটরগাড়ি)। 

টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথায় কোনো ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। আশা করছি নির্বাচন সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে। 

উল্লেখ্য, গত ১৬ নভেম্বর এ আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন মারা গেলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।