নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনের খসড়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এই আইন সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবে উল্লেখ করে নাগরিক সমাজ ও অংশীজনের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে চূড়ান্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই আইন প্রণয়নে সরকারের আকস্মিক পদক্ষেপ ইতিবাচক হলেও প্রস্তাবিত খসড়ায় নাগরিক সমাজ ও অংশীজনের সুপারিশ আমলে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি না করা ছিল হতাশাজনক। কমিশনারদের নিয়োগে যোগ্যতা ও অযোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিরূপণে সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকা অগ্রহণযোগ্য।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের উদ্বৃতি দিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর সাংবিধানিক অতিগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এমন একটি আইন 'যেনতেন'ভাবে পাসের একটি প্রক্রিয়া চলছে। বিভিন্ন সময় নাগরিক সমাজ এবং অংশীজনের পক্ষ থেকে দেওয়া সুপারিশমালার অধিকাংশই আমলে নেওয়া হয়নি। খসড়া আইনে কমিশনারদের যোগ্যতা নির্ধারণের তিনটি ধারায় তাদের সততা, ন্যায়পরায়ণতা, নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা, সৎসাহস ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, নারী সদস্য অন্তর্ভুক্তির কোনো বিধানও রাখা হয়নি। এমনকি অযোগ্যতা নির্ধারণে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানে দুই বছরের কম মেয়াদে ফৌজদারি অপরাধে সাজা হলেও কমিশনার হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সুনির্দিষ্টভাবে তাদের দলনিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কিংবা ঋণখেলাপি ও দুর্নীতিতে সংশ্নিষ্টতা ইত্যাদি বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। এমনকি গুরুতর অসংগতির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের অপসারণের সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান না রাখাও হতাশাজনক।

বিবৃতিতে বলা হয়, অনুসন্ধান কমিটিতে দুজন নাগরিক প্রতিনিধির রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাদের যোগ্যতার মাপকাঠি ও কমিটির কর্মপদ্ধতি কী হবে তা স্পষ্ট নয়। কমিটির প্রস্তাবিত নাম চূড়ান্ত হওয়ার আগে প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়নি। বিবৃতিতে পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাইসহ নাগরিক সমাজের মতামতের ভিত্তিতে খুঁটিনাটি বিশ্নেষণ করে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করার দাবি জানান ইফতেখারুজ্জামান।