কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরের অপসারণের দাবি নিয়ে রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।

অবস্থান কর্মসূচিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রেজিস্ট্রারের অপসারণ দাবি করেন। এ সময় তারা ‘প্রশাসন থেকে রেজিস্ট্রার, 'দিতে হবে দিয়ে দাও’সহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নেতাদের একাংশ রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবিতে বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে তারা পদোন্নতিসহ বিভিন্ন কারণে কয়েকবার গেছেন। কিন্তু কোন ফলাফল আসেনি। তাই তারা শিক্ষকদের মধ্য থেকে নয়, কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রেজিস্ট্রার চান।

এদিকে সকাল থেকেই রেজিস্ট্রার দপ্তরে তালা দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেন ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারীদের আরেকটি পক্ষ। তারা আট দফা দাবিসহ ৮২ জন কর্মচারী স্বাক্ষরিত একটি স্বারকলিপি উপাচার্য বরাবর জমা দেন। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে তালা দেওয়া নিয়ে দু’পক্ষের বাক-বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।

এ বিষয়ে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবু তাহের বলেন, আমরা বর্তমান রেজিস্ট্রারের অপসারণ চাই, পাশাপাশি কর্মকর্তা থেকে রেজিস্ট্রার চাই। কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রেজিস্ট্রার হলে আমাদের দাবি-দাওয়া পূরণ হবে।

অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ আমরা রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে অবস্থান করিনি। আমরা রেজিস্ট্রারের অপসারণসহ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রেজিস্ট্রার চেয়ে স্মারক লিপি দিয়েছি'।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর মেয়াদের শেষ সময়কে কেন্দ্র করে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাজনীতির চর্চার মতো। আমি চাই- বিশ্ববিদ্যালয় এই অপরাজনীতি থেকে মুক্ত হোক। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দাবি করতেই পারে। তবে শিক্ষকদের মধ্য হতে রেজিস্ট্রার হলে তা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সবার জন্য ভাল’।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি দাওয়া পূরণ ও রেজিস্ট্রার নিয়োগ করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এখানে অফিস তালাবদ্ধ করে ভিসির মেয়াদের শেষ সময়ে পরিবেশ অস্থিতিশীল করে নতুন ভিসির কাছ থেকে সুবিধা নিতে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাজনীতি শুরু করে।

প্রসঙ্গত, কুবি রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি বঞ্চিত করা, জামাত-শিবির পন্থীদের সুবিধা প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ তুলে রেজিস্ট্রারকে অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বুধবার থেকে প্রশাসনিক ভবনে আন্দোলন করছেন।