টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে স্বামী-সন্তানদের হত্যার ভয় দেখিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দুই সন্তানের জননী ভুক্তভোগী সেই নারীর অভিযোগ, স্থানীয় মাতব্বররা ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে সেই ঘটনা রফাদফার চেষ্টা করেছেন।

মধুপুর উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের সুজলকর গ্রামে সেই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আলহাজ উদ্দিন (৫০)। গত শুক্রবার মধ্যরাতে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ গৃহবধূর। পরে স্থানীয় মাতব্বরা সেই ঘটনা নিয়ে সালিশি বৈঠকে বসলে ঘটনাটি রোববার এলাকায় তোলপাড় তুলে। 

গৃহবধূর অভিযোগ, শুক্রবার রাতে তার স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে আলহাজ উদ্দিন তার ঘরে এসে লুকিয়ে থাকেন। পরে তিনি সন্তানদের নিয়ে ঘুমাতে গেলে তাকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ করেন আলহাজ।  

তিনি বলেন, ‘আলহাজ আমাকে মাঝে মধ্যেই কুপ্রস্তাব দেয়। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে বলে পুরো পরিবারকে মেরে ফেলবে। সেদিন রাতে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আমার চিৎকারে বাড়ির লোকজন আলহাজকে আটক করে। সমাজে এখন আমি মুখ দেখাতে পারছি না। ওর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

পরে গৃহবধূর স্বামী সমকালকে জানান, এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মাতব্বর হাফিজুর রহমান তোঁতা, মমেন কলম, মালেক মিয়া, সাইফুল ও সাবেক মেম্বার আইনাল হক ৭০ হাজার টাকায় এ ঘটনা রফাদফার চেষ্টা করেন। পরে আলহাজকে ছেড়ে দেয়। 

তিনি বলেন, ‘মাতব্বররা ঘটনাটি বাড়ি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রাখতে বলেছেন। আমি বাড়ি ছিলাম না তখন। বাড়ি এসে সব শুনে ধনবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।’

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাতাব্বার হাফিজুর রহমান তোঁতা বলেন, ওই রাতে সাবেক ইউপি সদস্য আইনাল হকের জিম্বায় সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে টাকায় রফাদয়া করে আলহাজকে ছেঁড়ে দেয়া হয়েছে।

গ্রাম পুলিশ আ. কাদের বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। মাতাব্বরা টাকা দিয়ে এ ঘটনা রফাদফা করে।’  

অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা ধনবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কিবরিয়া বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছিলাম। অভিযুক্ত আলহাজ পলাতক রয়েছে। চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বীরতারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহাম্মেদ আল-ফরিদ বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় অপরাধীর সঠিক বিচার হওয়া দরকার।’