নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক রঘুনারচর গ্রামে মায়াদ্বীপ শিশু পাঠশালার শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগ এসেছে। 

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, দুর্বৃত্তরা মায়াদ্বীপ শিশু পাঠশালাটি বন্ধ করে দিতে চান।

হামলায় মায়াদ্বীপ শিশু পাঠশালার প্রধান শিক্ষকসহ ৫জন আহত হয়েছে। গত শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত প্রধান শিক্ষক মরিয়ম আক্তার পাখির ভাই মো. শরীফ সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক রঘুনারচর গ্রামে একটি সামাজিক সংগঠন সুবর্ণগ্রাম সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ‘মায়াদ্বীপ শিশু পাঠশালা’ নামের একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওই এলাকার বালু ব্যবসায়ী আবুল হাশেম স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগেন। শনিবরা রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পাখির বাড়িতে আসে সন্ত্রাসীরা। 

রাতে পৌনে নয়টার দিকে মায়াদ্বীপ শিশু পাঠশালার প্রধান শিক্ষক মরিয়ম আক্তার পাখির ঘরে প্রবেশ করে। এসময় আনোয়ার হোসেন ওরফে আন্ডার আলীর নেতৃত্বে মেহেদী, আবুল হাশেম, শাহজালাল, শাহ পরান,দ্বীন ইসলাম, রাসেল, ফয়সাল, রাকিব, মো. রহিম আলী. রমজান, শরীফ, ফাহিম, মাসুদ, মঙ্গল আলী ও ইউসুফ আলীসহ ২০-২৫জনের একটি দল লাঠিসোটা, ধারালো দা. বটি,শাবল নিয়ে হামলা করে। হামলায় মায়াদ্বীপ শিশু পাঠশালার প্রধান শিক্ষক মরিয়ম আক্তার পাখি, এক বছর বয়সী কন্যা শিশু পারিশা, সহকারী শিক্ষক রাশেদ, শরীফ, মা নাছিমাকে লাঠিসোটা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে মারাক্তকভাবে আহত করে। 

এসময় তারা প্রধান শিক্ষকের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 

মায়াদ্বীপ শিশু পাঠশালার সহকারী শিক্ষক রাশেদ বলেন, ‘আবুল হাশেমের নেতৃত্বে এ এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড হয়ে থাকে। তার একটি নিজস্ব বাহিনী রয়েছে। এ স্কুল বন্ধ করতে পারলে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের এ এলাকায় আসা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তারা নির্বিঘ্নে অপরাধ করতে পারবে।’

অভিযুক্ত আবুল হাশেম বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত না। আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য। এ ঘটনার সময় ওই বাড়িতে গিয়েছি কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না।’ 

সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘অভিযোগের পর হাসপাতালে তদন্তের জন্য হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বললেই বিস্তারিত জানা যাবে।’

সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হামলার ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’