গোপালগঞ্জে গোপনে স্ত্রীর মরদেহ দাফন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন চট্রগ্রাম রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম (৪৭)। এ সময় পুলিশ লিওন সাহা নামে তার এক সহযোগীকেও আটক করে। মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জ থানা পুলিশ আটক এই দু’জনকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠায়। 

ওই নারীর নাম উম্মে সাইয়েদা (২৩)। তিনি শাহ আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী। গত ১৩ জানুয়ারি তাদের বিয়ে হয় বলে জানিয়েছেন ওই প্রকৌশলী। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তার বাবা মো. শরিফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছে। তিনি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা গ্রামের মো. শরিফুল ইসলামের মেয়ে। আড়াই বছর আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর সাইয়েদার বাবা ফকিরহাট থানায় একটি জিডি দায়ের করেন।

গোপালগঞ্জ পৌর কবরস্থানের রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান বলেন, সোমবার খুব ভোরে দাফন করার জন্য গাজীপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গোপালগঞ্জ পৌর কবরস্থানে আনা হয় ওই নারীর মরদেহ। এর আগে রাতেই ওই কবরস্থানে কবর খুঁড়ে রাখা হয়। আমি মৃত ওই নারীর এনআইডি কার্ড অনুযায়ী পরিচয় জানতে চাই। পরিচয় দিতে তারা আমার কাছে গড়িমসি করে। একপর্যায়ে রেলওয়ে অফিসার শাহ আলম ও তার সহযোগী লিওন সাহা কবর থেকে দ্রুত লাশ উত্তোলন করে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই দুইজনকে থানায় নিয়ে যান। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

আটক চট্রগ্রাম রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলমের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার শাহদৌলতপুর গ্রামে। তার সহযোগী লিওন সাহার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী গ্রামে।

শাহ আলম বলেন, ‘লিওন সাহার সহযোগিতায় ১১ দিন আগে উম্মে সাইয়েদাকে বিয়ে করি। বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের বেতাগা গ্রামে উম্মে সাইয়েদার বাড়ি। শনিবার রাতে হঠাৎ উম্মে সাইয়েদা মৃত্যুবরণ করে। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি। আমার আগের পক্ষের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। তাদের কাছে বিষয়টি গোপন করতে চেয়েছি। এ কারণে গোপনে দাফনের জন্য লিওনের সহযোগিতায় উম্মে সাইয়েদার মরদেহ গোপালগঞ্জে নিয়ে আসি। দাফনের সময় রেজিস্ট্রারের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে মরদেহ নিয়ে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করি।’

গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ওই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে ওই নারীর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।