চট্টগ্রামে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকাভর্তি ব্যাগ উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশকে নাকানিচুবানি খাইয়েছেন এক চোর। তাকে গ্রেপ্তারের পর ব্যাগটি সম্পর্কে পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বারবার বিভ্রান্ত করেন তিনি।

ব্যাগটি উদ্ধারে রাতভর চোরকে নিয়ে নগরীর এ মাথা থেকে ও মাথা চষে বেড়িয়েছে পুলিশ। অবশেষে সোমবার ভোরে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার চন্দ্রনগর সারোয়ার সাহেব কলোনির চোরের বাসা থেকে ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে রোববার রাত ১২টার দিকে কোতোয়ালি থানার রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ব্যাগটি চুরি করে পালানো অটোরিকশাচালক মতিন মিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার মতিন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থানার প্রতাপ গ্রামের মো. মমতাজের ছেলে। তার কাছ থেকে চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে পরিবার নিয়ে ট্রেনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরেন অনুপ সেন নামে এক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রেলওয়ে স্টেশন থেকে অটোরিকশা নিয়ে কোতোয়ালি থানার সতীশ বাবু লেনের বাসার সামনে যান তিনি। অটোরিকশা থেকে তারা নামলে ব্যাগ নামানোর আগেই ভাড়া না নিয়ে ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেন অটোরিকশা চালক মতিন।

এ ঘটনায় বিকেল ৪টার দিকে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন অনুপ। তাৎক্ষণিক সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চট্ট মেট্রো-থ-১৩-৩৭৮৫ নম্বরের অটোরিকশাটি শনাক্ত করে পুলিশ। রাত সাড়ে ১২টার দিকে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অটোরিকশাটি জব্দ ও চালক মতিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, মতিনকে গ্রেপ্তারের পর চুরি করা ব্যাগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। একবার বলেন ব্যাগটি দেওয়ানহাটে তার বোনের বাসায় আছে। সেখানে গেলে তিনি জানান ব্যাগটি আকবরশাহ এলাকায় তার বন্ধুর বাসায় রেখেছেন। পুলিশ ব্যাগটি উদ্ধারে সেখানে যায়। এবার তিনি বলেন ব্যাগটি বন্দর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় রেখেছেন। এভাবে ব্যাগটি উদ্ধারে তাকে নিয়ে চষে বেড়িয়েছে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ব্যাগটি তার বর্তমান ঠিকানার বাসায় রেখেছেন বলে স্বীকার করেন। সোমবার ভোরে তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। বাসার সামনে পরিত্যক্ত বাথরুম থেকে ১০ হাজার টাকা, আলমারি থেকে চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও বাসার ভেতরের একটি ড্রাম থেকে কাপড় ভর্তি ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়।