৬০ হাজার থেকে ঈদের বিক্রি ৩ হাজারে!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০১৯     আপডেট: ০৮ জুন ২০১৯      

বিনোদন প্রতিবেদক

দেশি চলচ্চিত্রের সংকট আর আকাশ সংস্কৃতির কারণে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিনেমা হলগুলো। যে হলগুলোও আছে তাতেও মানহীন ছবি ও হলের পরিবেশের কারণে হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন দর্শকরা। ফলে সারা দেশের মতো একের পর এক বন্ধে হয়ে গেছে মেহেরপুর জেলার সিনেমা হলগুলোও। 

মেহেরপুর জেলার মোট তিনটি হলের মধ্যে একটি বন্ধ হয়ে গেছে আগেই। টিকে আছে জেলা সদরে অবস্থিত ‘মেহেরপুর সিনেমা হল’  ও  মেহেরপুরের বামন্দীতে অবস্থিত রানা সিনেমা হল।

এবারের ঈদে সদর সিনেমা হলে মালেক আফসারি পরিচালিত শাকিব-বুবলীর ‘পাসওয়ার্ড’ প্রদর্শিত হলেও বামন্দীতে অবস্থিত রানা সিনেমা হলে প্রদর্শিত হচ্ছে সাকিব সনেট পরিচালিত শাকিব-ববির ‘নোলক’।

ঈদের চতুর্থ দিনে সরেজমিনে গিয়ে বামন্দী রানা সিনেমা হলে ঈদের ছবির খোঁজ খবর নেয়া হয়। গত এক বছর ধরে হলটির লিজ নিয়ে চালাচ্ছেন আব্দুল জব্বার ও তার ভাই। তার আগে হলটির ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। আক্ষেপ নিয়ে জব্বার জানান, এবারের ঈদে একেবারে ধরা খেয়ে গেলাম। সেল একেবারেই নেই। অথচ শাকিব খানের ছবি এলেই ঈদে এই হলে প্রতি দিন ৫০ থেকে ৬০ হাজার সেল হয়।অথচ এবার ঈদের প্রথম দিন সেল হয়েছে ১০ হাজার, পরের দিন ৫ হাজার ও তৃতীয় দিন তিন হাজার। দেখুন এইবার কী অবস্থায় আছি। আজও মনে হয় না খুব একটা বাড়বে।’

ঘুরে ঘুরে দেখা যায় মেহেরপুরের ভিতরে হলেও হলের পরিবেশ খুব একটা খারাপ না। গ্রামীণ আবহে হলের এমন পরিবেশে দর্শকদের সিনেমা না দেখতে আসার অজুহাত থাকার কথা নয়।

বিগত ঈদে ৫০-৬০ হাজার প্রতিদিন সেল হলেও এবার কমে গেলো কেন? প্রশ্ন রাখতেই জব্বার বলেন, ‘আমাদের দর্শকই আমাদের প্রচারক। তারা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে ছবিটি নিয়ে নেতিবাচক বলছেন। ফলে দর্শক আসছে না। অথচ জেলা সদরে পাসওয়ার্ড প্রদর্শিত হচ্ছে।  খোঁজ নিয়ে দেখলাম সেখানে সেল রিপোর্ট বেশ ভালো। অথচ আমি প্রথম পাসওয়ার্ড বুকিং করেছিলাম। জাজ আমাকে দিলো নোলক। বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লাম এই ঈদে।’

রানা হলে মোট আসন সংখ্যা ৬শ’। এর মধ্যে ডিসিতে ২শ’ এবং নিচে ৪শ’। হলটির বয়স ৩২ বছর। এর আগে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলেও হলটিতে মেশিন বসিয়ে ফের সচল রাখে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া।