চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি

নিয়ম দেখিয়ে ভোটার বাদ, নিয়ম ভেঙ্গে নতুন ভোটার

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০১৯      

বিনোদন প্রতিবেদক

আগা্মী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। এই নির্বাচন ঘিরেই এফডিসি এখন সরগরম। যেনো উৎসবের  আমেজ বইছে চিত্রপাড়ায়।  এ উৎসবের বাইরেও কিছু শিল্পীদের হৃদয়ে বইছে কান্ন। হতাশা নিয়ে এফডিসিতে আসছেন তারা। শিল্পী সমিতির সামনে বসে থেকে চলেও যাচ্ছেন। কারণ সমিতি তাদের ভোটাধিকার বাদ করে দিয়েছে। নিয়ম দেখিয়েই ভোটার থেকে বাদ করা হয়েছে বলে দাবী সমিতির গত মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

জানা গেছে গত নির্বাচনে শিল্পী সমিতির মোট ভোটার সংখ্যা ছিলো ৬২৪ জন। মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেল বিজয়ী হওয়ার পর এ তালিকা থেকে ১৮১ জন ভোটারের ভোটাধিকার খর্ব করে কেবল সহযোগি সদস্য করা হয়েছে। যারা এবার ভোট দেয়ার অধিকার পাবেন না।  অন্যদিকে নতুন করে ২০ জন শিল্পীকে করা হয়েছে নতুন ভোটার।

শিল্পী সমিতির ২০১৯-২০ মেয়াদের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৪৪৯ জন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শিল্পী সমিতির কার্যালয়ের বোর্ডে ভোটারদের এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে এবারের নির্বাচন কমিশন। 

সমকাল অনলাইনের কাছে বাদ পড়া ওইসব ভোটার অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে মিশা-জায়েদের নামে। তারা বলছেন, গঠনতন্ত্রের যে ধারার উপর ভিত্তি করে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে আবার একই ধারাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অনেককে  সদস্য করেছে মিশা-জায়েদ। 

গঠনতন্ত্রের যে ধারা নিয়ে কথা উঠেছে সেটি শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্রের ৫(ক) ধারা। যেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে,  বাংলাদেশে মুক্তি পাওয়া ন্যুনতম পাঁচটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অবিতর্কিত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। কার্যকরি পরিষদের আবেদন গৃহিত হলেই তিনি পূর্ণ সদস্যপদ পাবেন। ভোটাধিকার এবং কার্যকরি পরিষদের যে কোন পদের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।  আর আবেদনকারীকে অবশ্যই  পেশাগতভাবে চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী হতে হবে।

এ ধারাকে সামনে এনেই ১৮১ জন পূর্ণ সদস্যের ভোটাধিকার বাদ করে তাদের সহযোগি সদস্য করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে আবার গঠনতন্ত্রের এ ধারার বাইরে গিয়ে বেশ কিছু শিল্পীকে সদস্য করা হয়েছে। যাদের অধিকাংশেরই পাঁচটি ছবি মুক্তি পায়নি। এর মধ্যে রয়েছে ডি এ তায়েব, যার মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সংখ্যা ২, মিষ্টি জান্নাতের ছবির সংখ্যা ৪, আসিফ নূরের ছবির সংখ্যা ২, বেগম প্রেমার ছবির সংখ্যা৩, বিন্দিয়া কবিরের ছবির সংখ্যা ৩, আরিয়ান শাহ ছবির সংখ্যা ২, শ্রাবন শাহর ছবির সংখ্যা ২, জেবা চৌধুরীর ছবির সংখ্যা ১। 

এছাড়াও নতুন সদস্য ও ভোটাধিকার দেয়া শিরিন শিলার মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সংখ্যা ৪, এইচ আর অন্তরের ১, সানজু জনের ৪, জলিলের ৩, তানহা তাসনিয়ার ৩ টি এবং তিনটি  ছবি মুক্তি পেয়েছে চিত্রনায়িকা জলির। তিনিও ভোটার সমিতির। এ তালিকায় আর অনেক শিল্পীই রয়েছে। যাদের গঠনতন্ত্র মোতাবেক ৫ পাঁচটি ছবি মুক্তি পায়নি। তারাও এবারের নির্বাচনে ভোট দেয়ার অধিকার পাচ্ছেন। 

আবার একই নিয়মে চিত্রনায়িকা অধরা খানকে দুটি ছবির প্রধান নায়িকা হওয়া সত্বেও বাদ দেয়া হয়েছে। একই ধারায় নায়ক শান, ফিরোজ শাহকেও বাদ দেয়া হয়েছে। শাকিব খান ও অমিত হাসানের আমলে ৫০ হাজার টাকা ফি দিয়ে ভোটার হয়েছেন শান। মিশা-জায়েদ এসে বাদ দিয়েছে তাকে। কিন্তু তার ৫০ হাজার টাকার কোন রফা করেনি এ কমিটি।

এ ছাড়া্ও সমিতির সদস্য পারভীন ও মিজানুর রহমান যথাক্রমে ২০০ এবং দুই হাজারের বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। সমিতির প্রায় শুরু থেকেই ভোট দিয়ে আসছেন তারা। তাদেরও বাদ দেয়া হয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। 

এই পারভিন জোড় গলায় দাবী করে বলেন, আমি যতগুলো ছবিতে অভিনয় করেছি জায়েদ খান ততগুলো ছবি সাইনও করতে পারেনি। সেই জায়েদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আমাদের লাথি দিযে বের করে দিয়েছে শিল্পী সমিতি থেকে। বলে, আমরা নাকী শিল্পী না। নায়ক-নায়িকার সঙ্গে সহযোগি চরিত্রে কাজ করলে  সে শিল্পী হয় না এটা কোন ধারায় লেখা আছে?

বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয় সমিতির গত মেয়াদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিশা সওদাগর ও জায়েদ খানের সঙ্গে। মিশা সওদাগর বলেন, এটা আমাদের একক সিদ্ধান্ত নয়। কার্যকরি পরিষদের সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদ মিলেই ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। তবে সংশোধনের এ তালিকায় কিছু আসল সদস্যও বাদ পড়েছে হয়তো। মানুষ তো ভুলের উর্ধ্বে নয়। চাল বাচতে গেলে তো কিছু ভালো চালও পড়ে যায়। আমাদের বেলায়ও হয়তো এমন কিছু হয়েছে।’

মিশা সওদাগরের সঙ্গে একমত পোষণ করেন জায়েদ খানও। তবে দ্বিমত দেন মিশা-জায়েদ কমিটির সহসভাপতি চিত্রনায়ক রিয়াজ।  তিনি বলেন, এটা আবার কোন ধরনের নিয়ম। একই নিয়ম দেখিয়ে একজনকে বাদ দিবেন আবার অন্যজনকে নিবেন। যাদের বাদ দেয়া হয়েছে তারা কী শিল্পী না? তারা কেনো ভোট দিতে পারবে না?  

গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে একাধিক শিল্পীকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৬-১৭ মেয়াদের শাকিব-অমিত কমিটি থাকাকালীন এ অনিয়ম হয়েছে বলে জানা যায়। ২০১৭ সালের ৫ মে নির্বাচনের ঠিক আগে ৮২ জনকে নতুন পূর্ণ সদস্যপদ দিয়ে ভোটাধিকার দেয় শাকিব-অমিত কমিটি। এ অভিযোগ শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটির।