আবারও বাংলাদেশের ছবিতে শিনা চৌহান

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০১৯      

বিনোদন প্রতিবেদক

শিনা চৌহান

একহারা গড়নের মেয়েটি। যেখানেই হাত দিয়েছেন, সেখানে সোনা ফলেছে। ওপার বাংলা-এপার বাংলায় সাবলীলভাবে নিজের দাপুটে উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। বলছি কলকাতার মেয়ে মডেল-অভিনেত্রী শিনা চৌহানের কথা। সম্প্রতি 'শান্তির জন্য সঙ্গীত' শিরোনামে কনসার্ট উপস্থাপনা করতে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। রাজধানীর এক পাঁচতারকা হোটেলে নন্দনের আড্ডায় মেতেছিলেন শিনা। গোলাপি পোশাকে মধ্যদুপুরের কড়া আলোয় তাকে লাগছিল বেশ। আলাপের শুরুতে বললেন তার এবারকার সফর নিয়ে। শিনা বলেন, 'আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে উপস্থাপনা করতে ঢাকায় এসেছিলাম। দেখতে দেখতে একটি বছর কেটে গেল টেরই পাইনি। আবারও উপস্থাপনার কাজে ঢাকায় এসেছি। ভালোই লাগছে। কৈলাশ খের, নার্গিস ফাখরীর উপস্থিতিতে একটি জমজমাট শো হয়েছে; যা দর্শকদের বেশ আনন্দ দিয়েছে।'

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত 'পিঁপড়াবিদ্যা'র মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে শিনা চৌহানের। যদিও পর্দায় আসার আগেই মাঠে প্রবেশ তার। বিপিএল কন্যা হিসেবে ঢাকার মাঠগুলোয় উপস্থাপনায় বেশ কয়েকবার দাঁড়িয়েছেন মাইক্রোফোন হাতে। সবুজ ঘাসের গালিচায় বলতে গেলে একপ্রকার রাজত্বই করছেন তিনি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ক্রিকেটের [বিপিএল] মাধ্যমে এ দেশের মানুষের কাছে পরিচিতি পান শিনা। চ্যানেল নাইনের 'পাওয়ার প্লে' অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হয়ে ওঠেন জনপ্রিয় এক মুখ। 'পিপড়া বিদ্যা' ছবি মুক্তি পেয়েছে প্রায় পাঁচ বছর হলো। এত বছর পর এখনও তার ছবিটি নিয়ে উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। পাশাপাশি আবারও বাংলাদেশের ছবিতে অভিনয় করার কথাও ভাবছেন তিনি।

"মিডিয়ায় নানামুখী কাজ করলেও নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আর বাংলাদেশের দর্শক 'পিঁপড়াবিদ্যা' ছবির মাধ্যমে আমাকে বেশি চিনেছে। 'রীমা' চরিত্রে দর্শক আমাকে গ্রহণ করেছে। আমার অভিনয় পছন্দ করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর গল্প বলার ধরন ভিন্ন। তার ভিশনটা হলো, আন্তর্জাতিক সিনেমা অঙ্গনের। তিনি সেভাবে কাজ করেন। এ রকম একটি অসাধারণ সিনেমার অংশ হতে পারাটা আমার জন্য ছিল সম্মানের। যে জন্য 'পিঁপড়াবিদ্যা' ছবিতে অভিনয় আমার কাছে সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশের ছবিতে কাজ করতে এখনও মন টানে। বেশ কয়েকজন নির্মাতার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। ইতিমধ্যে একজন নির্মাতার সঙ্গে কথাবার্তা কিছুটা এগিয়েছে। আশা করছি, এ বছরই নতুন ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে জানাতে পারব"- বলেন শিনা।

২০১০ সালে মালায়লম ভাষায় মুক্তি পায় শিনা চৌহান অভিনীত প্রথম ছবি 'দ্য ট্রেন'। ২০১১ সালে তিনি অভিনয় করেন কলকাতার জনপ্রিয় পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের 'মুক্তি' ও 'পত্রলেখা' ছবিতে। 'পিঁপড়াবিদ্যা' ছিল শিনার চতুর্থ ছবি। এরপর বাংলাদেশের কোনো ছবি না করলেও কলকাতায় বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনয় ক্যারিয়ারে জিতেছেন অনেক পুরস্কার। পেয়েছেন নানা খেতাব। এর মধ্যে রয়েছে 'মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া', 'লাকমে মিস কলকাতা', 'সিন্ড্রেলা বিউটি অ্যান্ড ট্যালেন্ট কলকাতা' ও 'ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি উইনার অব মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া আই অ্যাম শি'। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে হলিউডে শিনার যাত্রা শুরু হয়েছে অনেক আগেই। গত বছরের মাঝামাঝি 'ফলেন অ্যাঞ্জেল' শিরোনামের একটি গানের মডেল হয়েছেন। গানটি গেয়েছেন মার্কিন গায়িকা-অভিনেত্রী সোই ফেবুলাস। লস অ্যাঞ্জেলেসের সানসেট বুলভার্ডে মিউজিক ভিডিওটির নির্দেশনা দিয়েছেন মার্কিন অভিনেতা-নির্মাতা জিনো মন্টেসিনোস। 'ফলেন অ্যাঞ্জেল' গানটি তৈরি হয়েছিল একটি ছবির জন্য। এর বিষয়বস্তু ছিল একজন নারীর হত্যাকারীকে ঘিরে। কিন্তু পরে ছবিটি আর তৈরি হয়নি। তাই এই গান নিয়ে মিউজিক ভিডিও নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন শিল্পী। শিনা বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই এটি তৈরি হয়েছে। মাদকের কারণে আমাদের ভবিষ্যৎ শিশুদের চরম ক্ষতি হচ্ছে। এই মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে সেই বার্তাই ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।' সামাজিক সচেতনতামূলক কাজে বরাবরই আগ্রহ শিনার। তাই 'ফলেন অ্যাঞ্জেল' গানের মিউজিক ভিডিওতে কাজ করে আনন্দিত হয়েছেন তিনি। এ ছাড়া হলিউডের ওয়েব সিরিজ 'ওয়ার্ডস'-এ দেখা গেছে তাকে। সম্প্রতি 'নো ম্যাড' নামে একটি হলিউডের ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। একজন ভ্রমণপ্রিয় মেয়ের জীবন নিয়ে এর গল্প। ট্যারন লেক্সন ছবিটি পরিচালনা করেছেন।


বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার মধ্য দিয়ে এ দেশকে অন্যরকম ভালোবেসেছেন তিনি। বাংলাদেশকে এখন তিনি ভাবছেন দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবেই। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশকে তো আমি আমার সেকেন্ড হোম বলি। সেটা এ কারণে যে, এখানে আমি যখনই আসি এখানকার মানুষের আতিথেয়তা, ভালোবাসা এত পাই যে, আমি মুগ্ধ। এ কারণেই বারবার এ দেশে আসতে মন চায়। বিপিএল-ওয়ান, বিপিএল-টু, এশিয়া কাপসহ যে কোনো আয়োজনে এ দেশের দর্শকদের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছি; যা আমাকে আরও ভালো কাজে উৎসাহিত করেছে।' এখানকার সিনেমা জগৎ কীভাবে দেখেন আপনি? 'ঢাকাই ছবির ঐতিহ্য রয়েছে। এখানে অনেক মেধাবী নির্মাতা রয়েছেন। অমিতাভ রেজা, গিয়াস উদ্দিন সেলিম, তৌকীর আহমেদ, রেদওয়ান রনি, আবু শাহেদ ইমনসহ অনেকেই খুব ভালো কাজ করছেন। আর মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর কথা আগেই বলেছি। তিনি তো বাংলাদেশের ফিল্মকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।' উপস্থাপনা, অভিনয়ের পাশাপাশি ইয়ুথ ফর হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার দূত হিসেবে কাজ করছেন শিনা। যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে মানবাধিকার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সংগঠনটি। ওই সংগঠনের প্রতিনিধি হয়ে সম্প্রতি জাতিসংঘে আয়োজিত এক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন তিনি। সেখানে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার শিক্ষা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এ মডেল-অভিনেত্রী। নিউইয়র্কের জাতিসংঘে ১৬তম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে ৪২টি দেশের শুভেচ্ছাদূতরা উপস্থিত ছিলেন। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য ওই আসরে পেয়েছেন 'হিরো' অ্যাওয়ার্ড।

শিনা বলেন, 'মানবাধিকারের দূত হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য সম্মানের। ১০ বছর ধরে মানবাধিকার শিক্ষার ব্যাপারে কাজ করছি। প্রত্যেক স্কুলে মানবাধিকারের শিক্ষাদান আমাদের স্বপ্ন রয়েছে।' শৈশব থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতি শিনার আগ্রহ ছিল ব্যাপক। দুই বছর বয়সে মঞ্চে ওঠেন তিনি। এরপর ড্যান্স, মার্শাল আর্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় কেটেছে। স্কুলজীবনে তিনি 'মিস কলকাতা' খেতাব অর্জন করেছেন। মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া হওয়ার গৌরব অর্জনের পর মিডিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। অভিনয় ও গান দুটি বিষয়ই দারুণ পছন্দ করেন গঙ্গাপাড়ের মেয়েটি। সব সময় হাসিখুশি থেকে জীবনকে উপভোগ করেন তিনি। অন্যদেরও তাই তার পরামর্শ, সব সময় হাসিখুশি থাকতে।